নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
ডিগ্রি অর্জনই তরুণদের শেষ দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘সমাজের একটি বড় অংশ এখনো উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আরও বেশি।’
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনাপ্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত সমাবর্তন সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদা আখতার।
উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার না হলে পুরনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে—এ কারণে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে অর্পিত ক্ষমতাবলে অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের যোগ্যতা অর্জনকারী গ্রাজুয়েটদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ডিগ্রি প্রদান করেন এবং সকল গ্রাজুয়েটকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফয়েজ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এএইচ