নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার ও উদারতা ছিল নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডক্টর ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন খালেদা জিয়ার উপস্থিতি, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি চাইতেন আমরা বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নীতি ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে যৌথভাবে মোকাবেলা করি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন বহুমাত্রিক ও নীতিনির্ভর ছিল। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এই নীতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমার সৌভাগ্য হয়েছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার দুই শাসনামলে অন্তত চারবার নীতি সংক্রান্ত আলোচনা করার। ১৯৯১ সালে আমি অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন, ব্যাংক কমিশন রিফর্ম কমিশনের সদস্য থাকাকালীন, ডব্লিউটিওর প্রাক্কালের আলোচনায় এবং ২০০২ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের জাতীয় কমিটির সদস্য থাকাকালীন এই সুযোগ হয়েছে।
তিনি বিশেষ করে ২০০৩ সালের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন, যখন বিদেশী তেল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের তেলের দ্রুত আহরণ ও রপ্তানির পরামর্শ দিয়েছিল। ডক্টর ভট্টাচার্য বলেন, “তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশ ছিল, ৫০ বছরের জন্য গ্যাস সংরক্ষণ করতে হবে। আমি জাতীয় কমিটির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন করেছিলেন—কিভাবে গ্যাস পাওয়া যাবে, রপ্তানি করলে আয় কত হবে, পাইপলাইন কোথায় যাবে। আমি উত্তর দিয়েছি, জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে গ্যাস উত্তোলন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। উনি সেই সময় খুব তীক্ষ্ণ হলেও ন্যায় ও যুক্তি প্রাধান্য দিয়েছেন।”
ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার নীতিনিষ্ঠা, উদারতা এবং দূরদৃষ্টি যদি আমাদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তা জাতীয় উন্নয়নের জন্য বিরাট অবদান রাখবে। তার জীবন আমাদের শেখায় যে ন্যায়বিচার, দেশপ্রেম ও জ্ঞানভিত্তিক নীতি আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীতে এই নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।
শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এআর