জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে শোকসভায় তিনি এই দাবি জানান।
এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হবার পর আমরা, বর্তমান মেডিকেল বোর্ড, উনার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহন করি।আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পাই যে ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে উনাকে Methotrexate নামের একটি ট্যাবলেট আর্থাইটিস এর জন্য নিয়মিত খাবার নির্দেশ দেয়া আছে এবং উনাকে ভর্তি থাকা অবস্থায় খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক এই ওষুধটি খাওয়ানো বন্ধ করি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটলজিস্টদের পরামর্শে এই ওষুধটি উনি খাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি উনার (MAFLD) ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিলো। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) লিভারের অসুখ নির্নয় করা খুবই সহজ একটি কাজ ছিলো এর জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই। methotrexate খাওয়ালে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটা উপাদান পরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং অস্বাভাবিক হলে ঔষধ বন্ধ করে নূন্যতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা দেখতে হয়।অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং MTXও বন্ধ করেননি।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে ম্যাডাম ওখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে রাজি হননি কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে উনার আস্থাভাজন চিকিৎসক দিয়ে বেড সাইডে Point of Care Ultrasound (POCUS) সহজেই করা যেত। নিদেনপক্ষে MTX বন্ধ করে দেয়া ছিল অবশ্য কর্তব্য।
এই চিকিৎসক বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে Methotrexate was the drug that accelerated her fatty liver disease to cirrhosis of liver! in that context it acted like slow poison for her liver.
মেডিকেল বোর্ডের এই চিকিৎসক বলেন, আজ দেশের লক্ষ কোটি মানুষের বুকের ভেতর একটা আফসোস- সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন! যদি দেখতে পেতেন মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে।
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদুর প্রসারি পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়াও উনার ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে আছে। এই বিষয়ে আইনগত ভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন:
১. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা।
২. ভর্তি কালীন সময় কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।
৩. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা।
৪. ভর্তি কালীন সময় কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।
৫. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কি কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, উল্লেখ করা দরকার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউর সমস্ত ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন।এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে-আশা করি। আমরা জানি - justice delayed justice denied.
বিইউ/এআর