images

জাতীয়

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের প্রতীকী অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে দেশের ৬৪টি জেলার প্রেসক্লাব চত্বরেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এই অনশন পালন করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের  মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান। উপস্থিত জোটভুক্ত সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের দাবিতে বক্তব্য রাখেন।

অনশন কর্মসূচিতে জোটভুক্ত উল্লেখিত সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ১৭-২০ সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি গাড়ি গণক সমিতি, বাংলাদেশ ডাক কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদ, এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ, পৌর কর্মচারী ফেডারেশন, পরমাণু শক্তি কমিশন কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্মচারী ইউনিয়ন, মশক নিবারণী অধিদফতর, শিল্পকলা একাডেমি কর্মচারী ইউনিয়ন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়ন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কর্মচারী পরিষদ।

প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগ, বাংলাদেশ ফুড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন, এমপিওভুক্ত কর্মচারী ঐক্য জোট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্মচারী সমিতি, বিএমইটি কর্মচারী সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন, আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় গাড়ি চালক ফেডারেশন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর কর্মচারী সমিতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সকল নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সহমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন।

সমন্বয়কবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার এগুলো আমলে নিচ্ছে না। ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আমরা আশা করেছিলাম ১৫ ডিসেম্বর এর মধ্যে সরকার পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবেন। কিন্তু সরকার পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করেনি; এমনকি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেননি। সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই আমরাও মানুষ, ক্ষুধার জ্বালা কোনো আইন মানে না। কর্মচারীরা ধৈর্যহীন হয়ে পড়লে কোনো আইন দিয়ে এদের বেঁধে রাখা যাবে না।

এ ছাড়াও, একই তারিখ সময়ে দেশের ৬৪টি জেলার সকল সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও কর্পোরেশনের সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা তাদের নিজ জেলার প্রেসক্লাবে উপস্থিত থেকে উক্ত কর্মসূচি পালন করবেন

নিম্নরূপ বিষয় বিবেচনায় ৯ম পে-স্কেল বান্ধবায়ন করতে হবে

১. ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫,০০০/- ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০/- টাকায় নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে এবং জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৯ম পে-স্কেল কার্যকর করতে হবে।

২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল এবং সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান প্রাযুয়িটি/আনুতোষিকের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারিসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে, এ ছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

এম/এফএ