images

জাতীয়

হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে বাদ জুমা সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ এএম

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সারাদেশে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

জাবের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় শহর, ইউনিয়ন, গ্রামে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ব্যাপারে আপনারা শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ কর্মসূচি পালন করুন। পুরো বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে আহ্বান করছি, আপনারা এই কর্মসূচি সফল করুন এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং গ্রেফতার এটা নিশ্চিত করুন। শহীদ ওসমান হাদির পরিবার রাষ্ট্রের কাছে কোনো সাহায্য চায় না, কিন্তু নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রকে তার সন্তান ও স্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।

সাগর-রুনির মতো যাতে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন তারিখের পর তারিখ না যায় তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমনটাই হয়, তাহলে আপনাদেরকেও জানিয়ে রাখি, আপাতত বিক্ষোভ মিছিল; এর পরের দিন হয়তো অবরোধ, এর পরের দিন যমুনা ঘেরাও, এর পরের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও, এর পরের দিন হয়তো আমরা সংসদ ভবন ঘেরাও করব।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি রাষ্ট্রের কোনো অংশ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকে, তার বিচার এই বাংলাদেশেই হতে হবে। এই বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

তিনি জানান, গুম কমিশন ও পিলখানা কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে হাদি সোচ্চার ছিলেন। এসব বিষয়ে তার শক্ত অবস্থানের কারণেই তিনি হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে তারা মনে করেন।

1

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে তদন্ত বা অভিযোগপত্র দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমরা তা মেনে নেব না। রাষ্ট্রকে স্পষ্ট করতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার করবে কি করবে না।

‘আমরা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়েছি, তারা মাথায় হাত রেখে শুধু দোয়া করে দেয়। তারা নিজেদের অসহায়তা দেখিয়েছে। একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তারা আমাদের সঙ্গে দেখাই করেনি। অথচ সেই দলই শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আবেগী বক্তব্য, ভিডিওগ্রাফি ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এই দ্বিচারিতা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি,’ যোগ করেন তিনি।

শহীদ ওসমান হাদির এই সহযোদ্ধা বলেন, আদালত আমাদের নারাজি (হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে) মঞ্জুর করেছেন এবং পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছেন। তদন্তের জন্য রাষ্ট্র সিআইডি, ডিবি বা এনএসআই- কাকে নিয়োগ করবে তা তাদের বিষয়। তবে রাষ্ট্র চাইলে এফবিআই, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বা এমআইটির মতো আন্তর্জাতিক পেশাদার সংস্থার সহায়তা নিতে পারে।

অভিযোগপত্র নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ফিলিপকে শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু হত্যার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়। পলাতক আসামিদের অবস্থান এখনো শনাক্ত না হওয়া নিয়ে গভীর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

/এএস