images

জাতীয়

এনআইডি জালিয়াতি, তথ্য বিক্রি করে কোটিপতি তারা!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্টেন্টসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জালিয়াতি এবং এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি অবৈধ আয় করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। 
 
গ্রেফতাররা হলেন- হাবীবুল্লাহ (৪১) ও আলামিন (৩৯)। দুজনেরই স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানা এলাকায়। 

বুধবার ঢাকার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর সাইবার ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট তাদের গ্রেফতার করে।

প্রথমে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় মো. আলামিনকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সহযোগী মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

মো. হাবীবুল্লাহ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মো. আলামিন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসে কাজ করতেন।

সিআইডি বলছে, আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি অত্যন্ত গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। এই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে মো. হাবীবুল্লাহ প্রতি সপ্তাহে মো. আলামিনকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিতেন।

কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য! 
সিআইডির তদন্তে আরো বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপনীয় আইডি ব্যবহার করে মো. হাবীবুল্লাহ দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য প্রতিটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন। নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানী তথ্যমতে, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এনআইডির তথ্য, ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য দেখা হয়েছে।
প্রতিটি এনআইডি তথ্যের জন্য গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই অর্থ দিয়ে ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের তথ্যও পাওয়া গেছে। 

গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডির মূল সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এমআইকে/ক.ম