নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ষোলঘর এলাকার পালবাড়ির বাসিন্দারা তাদের ৮০ বছরের পৈত্রিক বসতভিটা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পরও সরকার পক্ষের পদক্ষেপে তাদের জমি ও বাড়ি রক্ষায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লুৎফে হাবীব, নাঈমা হাবীব, ইমরান হাবীব, নাসিমা হাবীব, শারমিন রহমান ও কাজী রুবেল এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লুৎফে হাবীব জানান, ষোলঘর এলাকার পুরনো খতিয়ান অনুযায়ী তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ২৪ শতাংশ। এই জমির মালিকানা তাদের পূর্বপুরুষদের নামে এসএ ও আরএস খতিয়ান অনুযায়ী আইনিভাবে নিশ্চিত। ১৯৪৩ সাল থেকে তারা এই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ ও ভোগদখল করছেন। পরবর্তীতে সেখানে সীমানা প্রাচীর এবং ১০-১২টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়, যা ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে বাড়ি ও দোকান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
লুৎফে হাবীব জানান, হাইকোর্ট ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে পাঠালেও ৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদের বসতভিটায় বেআইনিভাবে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এতে হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থি পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ভুক্তভোগী বলেন, ছয়-সাত মাস আগে একজন সার্ভেয়ারসহ কিছু অচেনা ব্যক্তি আমাদের জমির চারপাশে মাপজোক শুরু করেন। উপস্থিত ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করলে তারা জানান, জমি থেকে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবগত করি। আমাদের জমি পৈত্রিক, সেখানে সরকারি কোনো রাস্তা নেই এবং আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছি।
তারা জানান, ২০০৭ সালে একটি প্রভাবশালী মহল তাদের জমির কিছু অংশে অন্যায়ভাবে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর তারা জেলা প্রশাসককে মাধ্যমে সিনিয়র সহকারী জজ শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জ আদালতে ৭/২০০৭ নং দেওয়ানি মামলা করে। তবে সিনিয়র সহকারী জজ ২২ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মামলা খারিজ করে বিবাদীদের পক্ষেই রায় দেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মুন্সীগঞ্জ ৬৭/২০১৮ নং স্বত্ব আপিল করলে অতিরিক্ত জেলা জজ ৭ ও ১১ জুলাই ২০২৪ তারিখে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইতোমধ্যেই হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জমি রক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এএইচ/ক.ম