images

জাতীয়

সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‌‘বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, সেটি অর্থবহ ও কার্যকর না হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। জাতীয় সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ও জনগণের আস্থা ফেরাতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত সংলাপ ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান সংকট উত্তরণে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হয়েছে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪— এই তিনটি সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে একই সূত্রে গাঁথা। এই তিন পর্যায়ের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব নেই। সামাজিক সুবিচার, মানবিক মর্যাদা এবং বৈষম্যবিরোধী চেতনা ধারাবাহিকভাবেই এসব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আন্দোলন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার, সংস্কার, নির্বাচন ও নাগরিক অধিকার— এই চারটি বিষয় বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এই নির্বাচনে কার কথা স্থান পাবে, আগের ধারাবাহিকতাই কি আবার চলবে, নাকি প্রকৃত কোনো পরিবর্তন দেখা যাবে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নানা সংশয়, দ্বন্দ্ব ও সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশের বর্তমান উত্তরণের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তবে প্রশ্ন কেবল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, বরং সেটি অর্থবহ হবে কি না। নির্বাচন শেষে কি বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসবে, নাকি আবারও পুরোনো গড্ডলিকা প্রবাহে দেশ ফিরে যাবে— এই প্রশ্নগুলোই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা এখনও পূর্ণতা পায়নি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের যে ভূমিকা ছিল, সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সংস্কার, মানবাধিকার রক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দাবি সামনে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্থান–পতন ও আর্থসামাজিক বাস্তবতায় কাঠামোগত সংস্কার কার্যকরভাবে এগোয়নি। গত দেড় দশকে মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।’


এএইচ/এফএ