নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে নতুন করে বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্যতা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি তোলা হয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের এই ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। ওই ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তরা আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনো আড়ালে রয়ে গেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হয়নি।
বক্তারা জানান, ঘটনার পর পরিচালিত বিচার কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতি ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষ্য, আলামত ও তদন্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তারা দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল, যা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া উন্মোচিত হবে না।
বক্তারা বলেন, বিচার শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুতদের ক্ষেত্রে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি। অনেকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তারা বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপরাধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের ভূমিকা প্রকাশ্যে আনা, দ্রুত শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন।
একই সঙ্গে বক্তারা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকেই দেশকে এই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে মুক্ত করতে হবে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন মো. জহুরুল ইসলাম জহুর (সভাপতি, অধিনায়কের সামারি কোর্ট বিডিআর-২০০৯), মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাধারণ সম্পাদক, অধিনায়কের সামারি কোর্টসহ বিডিআর-২০০৯) সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
এম/এএইচ