images

জাতীয়

ই-বর্জ্যভারে বিপর্যস্ত ঢাকা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি 

আব্দুল হাকিম

০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

  • বছরে চার লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপাদন
  • মাত্র তিন শতাংশ ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার
  • নিরাপদ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নেই কর্তৃপক্ষের
  • ই-বর্জ্যে বাড়ছে ক্যানসার ও শ্বাসকষ্ট 

দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দিন দিন ভয়াবহ পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, বৈদ্যুতিক বাতি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এসব পণ্যের মেয়াদ শেষে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু ভারসাম্যহীনতা এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ই-বর্জ্যের পরিমাণ ভয়ংকরভাবে বাড়িয়ে তুলছে। উন্নত প্রযুক্তির নতুন নতুন পণ্য বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো পণ্য দ্রুত বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। মানুষের প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ার ফলে আপডেটেড যন্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা ই-বর্জ্য সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের মাত্র তিন শতাংশ পুনর্ব্যবহার বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি অংশ খোলা ডাম্পিং এলাকায়, জলাশয়ে কিংবা অনিরাপদভাবে পোড়ানো হয়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর দেশে প্রায় চার কোটি মোবাইল ফোন আমদানি হচ্ছে। এসব ফোন দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ই-বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। একইভাবে কম্পিউটার, টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অথচ এসব বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

ই-বর্জ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এক জরিপে দেখা গেছে, নগর এলাকার শত জনের মধ্যে মাত্র ছয় শতাংশ মানুষ ই-বর্জ্য সম্পর্কে জানেন এবং মাত্র দুই শতাংশ মানুষ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ধারণার সঙ্গে পরিচিত। এই পরিস্থিতি গ্রামাঞ্চলে আরও ভয়াবহ বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। সচেতনতার অভাবে মানুষ ই-বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দিচ্ছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

আরেকটি গবেষণা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ই–বর্জ্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর বিশ্বব্যাপী ই–বর্জ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৬২ মিলিয়ন টন ই–বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ যথাযথভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ই–বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে ৮২ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধরন ও কাঠামোর ওপর। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে উৎপন্ন মোট ই–বর্জ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের মাধ্যমে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করায় তারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে খোলা জায়গায় ই–বর্জ্য পোড়ানো বা ভাঙার কারণে পরিবেশ দূষণ ক্রমেই বাড়ছে। ই–বর্জ্যের ভেতরে থাকা সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ব্যবহৃত পুরোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, ই-বর্জ্যে থাকা সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল ও বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক উপাদান মাটি ও পানিতে মিশে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে। খোলা জায়গায় ই-বর্জ্য পোড়ানোর ফলে বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন, শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার, স্নায়বিক রোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু শ্রমিকেরা ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত শিশু শ্রমিকদের বড় একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছে এবং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের কারণে মৃত্যুবরণ করছে। এছাড়া পানিদূষণের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে, যার সুনির্দিষ্ট কারণ অনেক সময় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

আইন ও নীতিমালার দিক থেকেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ২০১১ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কার্যকর আইন ও কঠোর প্রয়োগের অভাবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি অবহেলিত খাত হিসেবেই থেকে গেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে বাসেল কনভেনশন অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশে ক্ষতিকর ইলেকট্রনিক বর্জ্য রফতানি করতে পারে না। তবে বাস্তবে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এই বর্জ্য দেশের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

করপোরেট খাতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। যদিও কিছু প্রতিষ্ঠান ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। আজিজু রিসাইক্লিং অ্যান্ড ই-ওয়েস্ট লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই খাতে কাজ করলেও বর্জ্য সংগ্রহের অভাবে তারা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।

গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরতেই একটি প্রেজেন্টেশনভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশ ও উন্নয়ন খাতে কাজ করা আমিনুর রসুল, জাকিয়া শিশির, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মো. হাফিজুর রহমান ময়না যৌথভাবে এই গবেষণাটি প্রস্তুত করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষা, নগর ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এই গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা বলেন, গবেষণা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন, পরিসংখ্যান এবং পূর্ববর্তী গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অনানুষ্ঠানিক ই–বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র এবং বিদ্যমান নীতিমালার বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত ডেস্ক রিভিউ ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষক আমিনুর রসুল বলেন, গবেষণায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন, পরিসংখ্যান এবং পূর্ববর্তী গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও অনানুষ্ঠানিক ই–বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষক জাকিয়া শিশির বলেন, ই–বর্জ্যের ভেতরে থাকা সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় একটি সমন্বিত ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন, উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিনের এবং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে গিয়ে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আইন অনুযায়ী পুরোনো ও ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা বন্ধ হয়নি। একইভাবে রফতানি কার্যক্রমেও নানা ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠেছে। 

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ই–বর্জ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অপরিকল্পিতভাবে ই–বর্জ্য ফেলা বা প্রক্রিয়াজাত করার কারণে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ই–বর্জ্য যথাযথ নীতিমালা, কার্যকর পরিকল্পনা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ই–বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সময়মতো সঠিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সম্ভাবনা ঝুঁকিতেই পরিণত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা গেলে তা পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। পুনর্ব্যবহার শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব আদায় এবং পরিবেশ সুরক্ষা একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব। এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হবে। 

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার ঢাকা মেইলকে বলেন, বর্তমানে যে নতুন ও জটিল পরিবেশগত সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে, তার অন্যতম হলো ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এই বর্জ্য থেকে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়—তিন ধরনের দূষণ সৃষ্টি হয়, যা মাটি, পানি ও বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ইলেকট্রনিক বর্জ্যে লেড, মার্কারি ও নিকেলের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেশি থাকে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে নির্গত ভারী ধাতু মাটিতে মিশে খাদ্যচক্রের মাধ্যমে শাকসবজি ও শস্যের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করছে। একইভাবে এসব দূষক পানিতে গেলে মাছের শরীরে জমা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেশের নদী ও জলাশয়ের মাছের মধ্যে লেডসহ অন্যান্য ভারী ধাতুর উচ্চমাত্রার একুমুলেশন পাওয়া যাচ্ছে। এসব ধাতু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার ফলে বিশেষ করে শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, আইকিউ কমে যাচ্ছে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সরকারি উদ্যোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মজুমদার বলেন, সরকার সম্প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রুলস প্রণয়ন করেছে, যেখানে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ইনফরমাল সেক্টরে শতাধিক ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থাকলেও ফরমাল সেক্টরে সরকারের অনুমোদিত মাত্র দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। গাজীপুরে একটি পাইলট প্রকল্প চালু আছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে, যার টিম লিডারের দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। নীতিগত পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো পর্যন্ত ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সন্তোষজনক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

এএইচ/জেবি