নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরাও চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাবারের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিচ্ছেন না। বরং বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ উপেক্ষা করে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি না দিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২–-১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলেও প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি। অথচ শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, এ পরিস্থিতিতে গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রিপক্ষীয় সভা হলেও সরকার ও মালিকপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন এবং পূর্বে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি কার্যকরের দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটিকে আইনের রূপ দিয়েছে এবং সেই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের বিধান বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। এমনকি ঢাকা মহানগরীর সুনামধন্য স্টার গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ গেজেট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটিও আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এসব দাবি কোনো বাড়তি সুবিধা নয়, বরং শ্রমিকদের আইনস্বীকৃত অধিকার।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আরো জানান, সরকারের অবহেলার কারণেই শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে জেলা, বিভাগ ও উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রাম পরিষদের কমিটি গড়ে উঠেছে এবং দেশের সাতটি বিভাগেই সংগঠনের কার্যক্রম ও ইউনিয়ন রয়েছে। তৃণমূল শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতেই দেশব্যাপী এই কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা সর্বত্র পালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মনির হোসেন।
এএইচ/এমআর