নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব শহীদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি, তাদের পরিচয় নির্ধারণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, এ পর্যন্ত ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত বাকি রয়েছে। যাদের পরিচয় এখনও নির্ধারণ করা যায়নি, তাদের শনাক্তে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন— শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম, শহীদ সোহেল রানা, শহীদ আসানুল্লাহ, শহীদ কাবিল হোসেন এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)। পরে এসব শহীদের কবর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক ই আজম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন, সেই বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সে সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী-পুরুষকে অজ্ঞাত পরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। শহীদদের পরিচয় উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিআইডির ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তা একটি সুসংগঠিত কার্যক্রমে রূপ নেয়।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও প্রোটোকল অনুসরণ করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই সংবেদনশীল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ড. মরিস টিম বিনস বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সহায়তায় কবর থেকে মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ফারুক ই আজম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ জন অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অন্তত জানতে পেরেছেন, তাদের প্রিয়জন কোথায় শায়িত আছেন— যা তাদের জন্য এক বড় মানসিক স্বস্তির বিষয়। এই কার্যক্রম শুধু মানবাধিকার ও আইনি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন নয়, বরং ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণেও সহায়ক।
তিনি এ কার্যক্রমে যুক্ত সিআইডি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি অঙ্গীকার করেন, অবশিষ্ট শহীদদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
এএইচ/এফএ