নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের চলমান আন্দোলনের কারণে সারা দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একদিকে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন, অন্যদিকে কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রাহক ভোগান্তি নিরসন ও দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে নতুন হ্যান্ডসেট কেনা, ওয়ারেন্টি সেবা গ্রহণ, রিপেয়ারিং ও যন্ত্রাংশ প্রাপ্তিতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে জরুরি যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনসহ দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রে মার্কেট সক্রিয় হয়ে ওঠায় প্রতারণা ও অতিরিক্ত দামে হ্যান্ডসেট বিক্রির ঝুঁকিও বাড়ছে।’
মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘নীতিগত কোনো অসন্তোষ থাকলে তার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কোনোভাবেই সাধারণ গ্রাহকদের ভুক্তভোগী করা গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রাহক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আপাতত এনইআইআর বাস্তবায়ন স্থগিত রেখে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে পরে এটি কার্যকর করা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিঘ্ন এড়ানো। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য হ্যান্ডসেটের গ্যারান্টি কমপক্ষে দুই বছর এবং ওয়ারেন্টি পাঁচ বছর নির্ধারণ, উৎপাদিত ও বৈধভাবে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের মূল্য নির্ধারণ করা এবং প্রতিটি হ্যান্ডসেটের মান নির্ধারণ করে তা স্টিকারের মাধ্যমে প্রদর্শনের দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: দেশে বিপুলসংখ্যক নকল আইএমইআই ফোন শনাক্ত
এছাড়া হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে গ্রাহক হয়রানি এড়াতে সারা দেশে বিটিআরসির পর্যাপ্ত কাস্টমার কেয়ার সেন্টার স্থাপন, আন্দোলন চলাকালে ন্যূনতম গ্রাহকসেবা চালু রাখা ও ওয়ারেন্টির গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা, অতিরিক্ত দাম ও প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারির দাবিও জানানো হয়।
বিবৃতির শেষে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে বলে, ইন্টারনেট বর্তমানে একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার থেকে দেশের মানুষ যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ যত্নবান হতে হবে।
এমআর/এমআই