images

জাতীয়

আজ থেকে সারাদেশে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ ইনকিলাব মঞ্চের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি। আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

আজ শনি ও রোববার বাংলাদেশপন্থী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হাদি হত্যার বিচারসহ চারটি দাবি নিয়ে আলোচনা করার কথাও জানান জাবের।

এছাড়া ৭ তারিখের মধ্যে হাদি হত্যার বিচারের চার্জশিট দাখিলের সময়সীমা বেঁধে আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি মানা না হলে ৭ তারিখের পর কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
 
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি

১. খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।

২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।

৩. ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।

৪. সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
 
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার।

১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে হাদির জানাজা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয় এই জুলাইযোদ্ধাকে।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
 
হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক সংগঠন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

/এএস