নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১২ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেলকে গণপিটুনি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারী চুয়া সেলিম ও পিচ্ছি রাজা গ্রুপের সদস্যরা। এ সময় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেনেভা ক্যাম্পের ৪ নম্বর সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে।
বুনিয়া সোহেলকে গণপিটুনি দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর পুলিশ খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রকিবুল হাসান, সহকারী উপ-পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক শরীফ আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের চুয়া সেলিম-পিচ্ছি রাজা গ্রুপের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে জনসমাগম সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেল গ্রুপ ও চুয়া সেলিম-পিচ্ছি রাজা গ্রুপের মধ্যে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত কয়েকদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের পর হামলা ও বাড়িঘরে লুটপাট চলছিল। কয়েকদিন আগে শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেলের ভাই টুনটুন ও আরেক সহযোগী এসকে নাসিম গ্রেফতারের পর বুনিয়া সোহেল গ্রুপের সদস্যরা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই সুযোগে ৪ নম্বর সেক্টরের শীর্ষ মাদক কারবারী চুয়া সেলিম, পিচ্ছি রাজা, পার মনু, শাহ আলম, ইমতিয়াজ, লালন, রনি, তারেক, মাওরা রাসেল, টুকি, সামির, বিকি, ফেরদৌস, নেতা সামির, চেম্বার রাজ, সুমন, আদিল, ফাইজান, নওশাদ, বেলুনসহ আরও অনেকে বুনিয়া সোহেলকে ধরে এনে উলঙ্গ করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুনিয়া সোহেলকে গণপিটুনি ও কুপিয়ে আহত করার পেছনে কাজ করেছেন শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী আরিফ ওরফে চাপা আরিফ। তার মাদক বিক্রি না করায় পিচ্ছি রাজা ও চুয়া সেলিম গ্রুপের সদস্যদের দিয়ে এ হামলা করানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার কাছাকাছি সময় খবর পাই যে ৪ নম্বর সেক্টরে বুনিয়া সোহেলকে আটকে রেখে মারপিট করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং গুরুতর মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। তবে, তাকে কারা ধরে এনে ৪ নম্বর সেক্টরে রক্তাক্ত করেছে, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তার জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি সম্ভবত জানা যাবে।
একেএস/এআর