জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০০ পিএম
নাজিম উদ্দিন তিন দিন আগেও ওষুধের দোকানে বসতেন। মানুষকে সেবা দিয়ে আয় করতেন। কিন্তু এখন তিনি আয়হীন। মঙ্গলবার বিকেলে বস্তিতে লাগা আগুন তার ওষুধের দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকানের উপরের অংশ, পুড়ে যায় বিভিন্ন মালামাল।
সেই পোড়া দোকানে তিন দিন পর আবারও ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে দোকানে ঢুকে পোড়া জিনিসপত্র ঠিক করছেন। নতুন কিছু ওষুধও নিয়ে এসেছেন। রাত থেকে সম্ভবত দোকান খুলবেন।
ঢাকা মেইলের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় নাজিমের।

নাজিম জানালেন, তার দোকানের টিন, প্লেন সিট এবং ফ্যান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি সবেমাত্র দোকান শুরু করেছিলেন। কিছুক্ষণ পরই শুনতে পান, আগুন লেগেছে। এরপর দোকান ফেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে এসে দেখেন দোকানের অবস্থা খারাপ।
তিনি বলেন, “গত তিন দিন ধরে কোনো আয় করতে পারিনি। বস্তির ভেতরে একটি রুমে পরিবারসহ থাকি। দোকান ঠিক করার জন্য এখন অন্তত ১৫–২০ হাজার টাকা দরকার। এই টাকা কোথা থেকে পাব, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় আছি।”

শুধু নাজিমই নন, কড়াইল বস্তির বাজার রোডে আরও কয়েকজনকে হোটেল ব্যবসা শুরু করতে দেখা গেছে। তাদের একজন রুবেল। গত তিন দিন ধরে তিনিও ব্যবসা চালু করতে পারেননি। শুক্রবার সকাল থেকে পরোটা ও ডাল নিয়ে বসেছেন তিনি। বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু আগের মতো ক্রেতা নেই। কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের কাছে এখন টাকা নেই, তাই তারা কিনে খেতে পারছে না।
কড়াইল বস্তির মাজার রোড ও কুমিল্লা বস্তির সামনে যতগুলো দোকান ছিল, সব পুড়ে গেছে। মাত্র দুই–তিনটি দোকান বাকি আছে, যা এখন ধীরে ধীরে চালু হতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর পুঁজি নেই।

শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর কয়েকটি চালু হতে শুরু করেছে। কেউ দোকান খুলে পড়া অংশ সরাচ্ছেন, কেউ বসে আছেন। তবে ক্রেতা তেমন নেই।
চালু হয়েছে কয়েকটি চায়ের দোকান, সেলুন, ওষুধের দোকান এবং কিছু হোটেল। এসব দোকানের ক্রেতার অধিকাংশই বাহিরের লোক। বিশেষ করে বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা এসব দোকানে কেনাকাটা করছেন।
এমআইকে/এআর