images

জাতীয়

৬৪ জেলার পুলিশ সুপার বদলি হলেন যেভাবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় প্রশাসনে দলনিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশ্বাস দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জানিয়েছিল।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার চূড়ান্ত করা হয়। বুধবার (২৬ নভেম্বর) নতুন পুলিশ সুপার বদলির তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) বদলিতে লটারি একটি ভালো পদ্ধতি হতে পারে না। সবার বিশেষ বিশেষ যোগ্যতা থাকে এবং লটারির মাধ্যমে দায়িত্ব দিলে তা ভালো ফল নাও দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় আগামী সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য লটারি করে ৬৪ জেলার এসপি চূড়ান্ত করা হয়। দুই দিন পর নতুন এসপিদের পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লটারি করার আগে ২৫ ও ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও বর্তমানে ৬৪ জেলার কর্মরত এসপিদের নিয়ে তালিকা করা হয়। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অনুগত নয়; কর্মজীবনে সততা, সুনাম, দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা রয়েছে এমন কর্মকর্তাদের নিয়ে তালিকা করা হয়। পরে তাদের মধ্য থেকে লটারি করে ৬৪ জেলার এসপি চূড়ান্ত করা হয়।

পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক পুলিশিং নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতেই লটারির পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে ৬৪ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এসপি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ, বি ও সি হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ৬৪ জেলার এসপির মধ্যে আগের ১৮ জন এসপিকে তুলে আনার পর সেখানে নতুন এসপি নিয়োগ হয়েছে। এরপর বাকিদের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েনি।’

বিইউ/এমআর