জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৭ পিএম
প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটের কোনো টেকসই সমাধান দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার আট বছর ধরে নিরলসভাবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কাজ করছে, তবে তহবিল কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার অষ্টম বছর পূর্তি উপলক্ষে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিজানুর রহমান বলেন, গত এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুইবার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছে এবং জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন দেখছি, কিন্তু প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গত আট বছরে একশনএইড বাংলাদেশের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের প্রস্তাবও আলোচিত হয়।
অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়—‘হিউম্যানিটারিয়ান-ডেভেলপমেন্ট-পিস নেক্সাস স্ট্র্যাটেজি’ এবং ‘প্রোমোটিং মাল্টি-সেক্টরাল অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচেস’। আলোচনায় অংশ নেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা, ইউএনএইচসিআর সহকারী প্রতিনিধি ডেভিড ওয়েলিন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম কক্সবাজার প্রধান জুয়ান কার্লোস মার্টিনেজ ব্যান্ডেরা, ইউএন উইমেনের সিলজা রাজান্ডার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শাহরিয়ার সাদাতসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক ও অধিকারকর্মীরা।
আলোচকেরা বলেন, রোহিঙ্গাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নারী উন্নয়নে বিনিয়োগ, এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে যুক্ত করেই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এনজিওগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়েরও আহ্বান জানান তারা।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, মানবিক সহায়তার সঙ্গে কোনো আপস চলবে না। রোহিঙ্গাদের দুঃসহ জীবনকে উপেক্ষা করা যাবে না। তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে সব সেক্টরকে নিয়ে কাজ করতে হবে।
আয়োজনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তায় অবদান রাখায় ছয়জনকে ‘বিকন অব হোপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন—মাউং সোলাইমান শাহ, মোহাম্মদ ইদ্রিশ, কাজী মো. শোয়েব আমরান, মো. আজাদ মোরাল, জেসমিন প্রেমা ও উম্মে হাফসা।
অনুষ্ঠানে আরও ছিল একশনএইডের আট বছরের কার্যক্রমভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, রোহিঙ্গাদের জীবনভিত্তিক নাটক ‘হত্তে থামিবো’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আদলে নির্মিত ‘ক্যাম্প হোপ’ প্রদর্শনী।
টিএই/এআর