নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:০১ পিএম
বর্তমান ইসলামি বিশ্বে যে সংকট বিরাজ করছে তার মূলে রয়েছে মুসলমানদের মধ্যকার বিভাজন। আর এই বিভাজন দূর করতে হলে রাসূল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করতে হবে এবং তাকে কেন্দ্র করেই মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বক্তারা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘ইসলামের নবী (সা.): মুসলিম উম্মাহ গঠনের অক্ষ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকায় দায়িত্বরত ইরান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোশি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ বছরের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অন্যান্য বছরের চেয়ে ভিন্ন, কেননা এই বছরটি আল্লাহর প্রিয় রাসুলের ১৫০০তম জন্মবার্ষিকী। ও.আই.সি র বৈঠকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সুপারিশে ২০২৫ সালকে “হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ১৫০০ তম জন্মবার্ষিকী” হিসেবে সারা মুসলিম বিশ্বে উদযাপন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আয়োজনের সাথে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে ওআইসিভুক্ত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সবার এক মতে একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে এবং সকলে মহানবী (সা.) এর ১৫০০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনে একমত হয়েছে।
বক্তারা এই অয়োজনকে মহানবী (সা.) এর চিরন্তন আদর্শকে চর্চা করার সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন৷ বক্তারা বলেন, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন। অর্থাৎ তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের মানুষরে জন্য রহমতস্বরূপ। তিনিই প্রথম বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার আগমণের পূর্বে পৃথিবীতে অন্ধকার যুগ ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম ঘোষণা করেন, পৃথিবীর সব মানুষ সমান। সাদার উপর কালোর কিংবা কালোর উপর সাদার বিশেষ কোনো মর্যাদা নেই।
বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পথ অনুসরণকারী মুসলমানরা হলো ভাই-ভাই। মুসলমানরা যাতে কখনো বিপদের সম্মুখীন না হয় সেজন্য আমাদের প্রিয় নবী মুসলমানদের ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা ঐক্যের রশ্মিকে শক্ত করে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়োনা। বর্তমান ইসলামি বিশ্বে যে সংকট বিরাজ করছে তার মূলে রয়েছে মুসলমানদের মধ্যকার বিভাজন। আর এই বিভাজন দূর করতে হলে রাসূল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করতে হবে এবং তাকে কেন্দ্র করেই মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। -বিজ্ঞপ্তি
ক.ম/