images

জাতীয়

পদ্মা সেতুর নাট খোলা বায়েজিদ ৭ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জুন ২০২২, ০৫:৩০ পিএম

পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে নিয়ে টিকটক ভিডিও করা যুবক বায়েজিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে শরীয়তপুরের একটি আদালত।

সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বায়েজিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরদিন রোববার ভোর থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেতুটি। দেশের দীর্ঘতম সেতুটি খুলে দেওয়ার প্রথম দিনেই বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এর ফাঁকে আলোচিত ভিডিওটি করেন বায়েজিদ।

cid

৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক সেতুর রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটি বল্টুর নাট খুলছেন। যিনি ভিডিও করছিলেন তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই লুজ দেহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দেহ।

নাট হাতে নিয়ে জবাবে বায়েজিদ বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু আমাদের... পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’

এ সময় পাশে থেকে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাইরাল কইরা ফালায়েন না।’

ভিডিওটি বায়েজিদের টিকটক অ্যাকউন্টে আপলোড করার পর ফেসবুকেও সেটি ভাইরাল হয়।

বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনরা সমালোচনা করলে সেটি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে বায়েজিদকে ধরতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গতকাল বিকালে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

cid-2

জিজ্ঞাবাদের পর বায়েজিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি।

রাজধানীর মালিবাগস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জেনেছি, এত বড় একটা স্থাপনার নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা যাবে না। এতে বোঝা যায় নাট-বল্টু হাতে দিয়ে খোলা হয়নি, নাট-বল্টু খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের পর বায়েজিদকে শরীতপুর আদালতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমআর