images

জাতীয়

ঈদের দিনে কবর জিয়ারত করে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩১ মার্চ ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

images

বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে দেশের মানুষ আজ ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত। এমন ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকে তাদের হারানো প্রিয়জনদের ভুলে যাননি। ঈদের সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত স্বজনদের কবরের পাশে গিয়ে অনেকে তাদের জন্য দুহাত তুলে দোয়া করেছেন।

ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অনেককে তাদের প্রিয়জনদের স্মরণ করেন।

বিকেলে সেখানে দেখা হয় রুবেল সরকারের সঙ্গে। বাবার কবর কেমন আছে তা দেখার জন্য ঢাকা উদ্যান থেকে আসেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে আসেন তিন ভাই বোন এবং দুই ভাগ্নেকে।

বাবার কবর জিয়ারত শেষে ফেরার পথে ঢাকা মেইলের প্রতিবেদককে রুবেল বলেন, ‘আজ দুই বছর হলো বাবা মারা যাওয়ার। প্রতি ঈদে বাবা আমাদের সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু গত চার ঈদ থেকে তাকে পাচ্ছি না। ভেতরটা ফেটে যায়। কিন্তু কি করব, যারা এই পৃথিবী থেকে চলে যায় তারা তো আর ফিরে আসে না। এজন্য আমরা যারা বেঁচে আছি তাদের জন্য দোয়া তো করতে পারি। কারণ দোয়ায় তাদের সম্বল।” 

eid-2রুবেলের বোন নাসিমা বলেন, ‘সারা বছর ব্যস্ততার কারণে আসতে পারি না। ঈদে আমরা ভাই বোন একসঙ্গে এসেছি।’ 

শুধু রুবেল ও নাসিমা নয়, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজের পর থেকে এই কবরস্থানে অনেক মৃতের স্বজনরা আসতে শুরু করেছেন।

বিকেল দেখা যায়, প্রধান গেট হয়ে কেউ রিকশা, গাড়ি বা প্রাইভেটকার নিয়ে ঢুকছেন। পরে তারা তাদের স্বজনের কবরটি খোঁজ করে সেখানে গিয়ে দোয়া মোনাজাত করছেন। কেউ কেউ আবার প্রিয়জনের ভাঙ্গা খবরটি মাটি তুলে মেরামত করছেন। পাশাপাশি কেউ আবার শুকনো কবরে বড় বোতলে পানি নিয়ে চারপাশ ছিটিয়ে দিচ্ছেন।

eid-3কবরস্থানে আসা বেশ কয়েকজন জানান, তারা সারা বছর আসতে পারেন না। বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে চিরঘুমে যাওয়া স্বজনদের কবর দেখতে আসেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।

রায়েরবাজার কবরস্থানে বিকেলের দিকে মৃত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতে স্বজনদের ভিড় বাড়ে। তবে অন্য সময়গুলোতে এত এমন ভিড় দেখা যায় না। 

ধানমন্ডি থেকে এসেছেন রুবানা ও তার ছোট ছেলে সন্তান। বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করছিলেন তিনি। রুবানা বলেন, ‘আমার তো ভাই নেই। আমি বাবার একমাত্র সন্তান। আত্মীয়-স্বজনরা সবাই গ্রামে থাকেন। আমি ঢাকায় থাকার সুবাদে মাঝেমধ্যে আসি। এরপরও খুব একটা আসা হয় না। আজ ছেলেকে নিয়ে এসেছি।’ 

জানা গেছে, এই কবরস্থানে অস্থায়ী ও স্থায়ী দুই ধরনের কবর রয়েছে। স্থায়ী কবরের জন্য সিটি করপোরেশনকে একটি চার্জ দিতে হয় এবং অস্থায়ী কবরগুলো কয়েক বছর পরপর গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে নতুন কবর তৈরি করা হয়। কিন্তু রায়েরবাজার কবরস্থানে এখন পর্যন্ত পুরাতন কবর গুঁড়িয়ে দিয়ে নতুন কবর করা শুরু হয়নি। ফলে সেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন কবরের সংখ্যা বাড়ছে।

eid-4

বসিলা থেকে এসেছিলেন রিয়াজুল৷ তিনি বলেন, ‘এখানে আমার মায়ের কবর রয়েছে। একজন লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে প্রতি মাসে টাকা দেওয়া হয়। শুধুমাত্র দেখভাল করার জন্য। প্রতি মাসে কমবেশি আসি। আজ ঈদ তাই আসলাম। কারণ সকাল থেকে মনটা ভারী হয়ে আসছিল। মাকে তো দেখতে পাব না, কিন্তু তার কবরের পাশে এসে দাঁড়ালে মনে হয় মা পাশে দাঁড়িয়ে আছে।’

রায়েরবাজার কবরস্থানের প্রধান গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নুরুল আমিন জানান, সকাল থেকে মৃত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের জন্য শত শত মানুষ এসেছেন এবং এখনো আসছেন। এই অবস্থা রাত পর্যন্ত চলবে।

এমআইকে/এমআর