নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৮ পিএম
তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত রাজধানীর জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে তেমন বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে সড়ক ও এর পাশে গড়ে ওঠা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অনেকটাই ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে ফুটপাতের টঙ দোকানগুলো। ফলে দিনের বেলা দোকান বন্ধ রাখছেন তারা।
রোববার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একাধিক এলাকায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর অন্যতম মগবাজার। সাধারণ অবস্থায় মানুষের পদচারণায় এলাকাটিতে পা-ফেলার জায়গা থাকে না। তবে তীব্র গরমে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে মগবাজারে। সূর্যের প্রখরতার সাথে সাথে মানুষের উপস্থিতি কমে এলাকাটিতে। একইসাথে মগবাজারের আউটার সার্কুলার রোডের দুইপাশে থাকা চা, পানসহ বিভিন্ন খাবার দোকানগুলোও বন্ধ থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন
মগবাজার কনভেনশন সেন্টারের পাশের গলিতে দীর্ঘদিন যাবত কলা, লেবুসহ বিভিন্ন দেশি ফল বিক্রি করে আসছেন ষাটোর্ধ্ব আহমদ আলী (ছদ্মনাম)। আর দশদিনের মতো দোকান খোলা রাখলেও এদিন বেলা বারোটার দিকে তাকে মাটিতেই শুয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। সকল পণ্য খোলা অবস্থায় রেখেই ঘুমাচ্ছেন এই ফল বিক্রেতা। পাশের মুদি দোকানে কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, আধা ঘণ্টার মতো হবে আলী মিয়া ঘুমিয়েছেন। সকাল থেকে দোকান খুললেও তেমন ক্রেতা নেই৷ এর সাথে প্রচণ্ড তাপে ক্লান্ত হয়ে হয়তো তিনি ঘুমিয়ে গেছেন।

গলিতে লোকজনের চলাফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে অফিস আওয়ারের পর থেকে এমনিতেই লোকজন কম থাকে। তবে আশেপাশে কাজ করা মানুষের চলাফেরা থাকে। তবে তীব্র গরমের কারণে এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। মানুষ সন্ধ্যার আগে তেমন বাসা থেকে বের হয় না।
একই চিত্র আশেপাশের চায়ের দোকানসহ অন্যান্য দোকানগুলোতেও। চায়ের দোকান সকাল ৭টা থেকে ৮টায় খোলা হলেও সড়কের পাশের দোকানগুলো অনেক বেলা পর্যন্ত বন্ধ থাকতে দেখা যায়। আবার সন্ধ্যার আগে আগে এসব দোকান খুলতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, সড়কের পাশে হওয়ায় দিনের বেলায় তীব্র রোদ লাগে। আর ক্রেতার সংখ্যাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম। তাই রোদের মধ্যে কষ্ট করে দোকান খুলি না। ক্রেতাই যদি না থাকে দোকান খুলে বসে থেকে কি লাভ।
এমএইচ/এমএইচএম