images

জাতীয়

সরকারিভাবে বড় ইফতার পার্টি আয়োজনে বারণ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম

পবিত্র রমজান মাসে সরকারিভাবে বড় করে ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেসরকারিভাবেও বড় ইফতার পার্টি আয়োজনে নিরুৎসাহিত করেছেন তিনি। ইফতারের টাকাটা দান করে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

প্রতি বছর রমজানে ইফতার পার্টির আয়োজন করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বড় বড় ইফতার পার্টির আয়োজন করে। গত বছর রমজান মাসে বড় কোনো ইফতার পার্টি করেনি আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি। এবার সরকারিভাবে বড় ধরনের ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটা নির্দেশনা আছে, সেটা হলো- রমজান মাসে সরকারিভাবে কোনো বড় ইফতার পার্টি উদযাপন করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, বেসরকারিভাবেও এমন ধরনের বড় ইফতার পার্টির আয়োজনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

রোজায় অফিস ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বলা হয়েছে যে, কারও যদি দায়-দাবি থাকে, তাহলে যেন সেই অর্থে খাদ্য কিনে গরিব মানুষের মাঝে যেন বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও সভায় ‘অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪’র খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব। বলেন, এই আইনের মাধ্যমে অনিবাসী বক্তি বা বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান, যারা এখানে ইনভেস্ট করবে, তারা অফশোর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। অফশোর ব্যাংকিং করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। তবে যারা আগেই লাইসেন্স পেয়েছে, তাদের নিতে হবে না।

মাহবুব হোসেন বলেন, মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড, জাপানী ইয়েন ও চায়নিজ ইয়ান মুদ্রায় ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। এই আইনের আওতায় অফশোর ব্যাংকিং করার জন্য তফশিলি ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো লাইসেন্স গ্রহণ করবে। এরপর অনিবাসী বাংলাদেশে বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত গ্রহণ করতে পারবে, ঋণ দিতে পারবে। ওই আমানত স্বাভাবিক ব্যাংকি পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারবেন। বিদেশে যে বাংলাদেশি আছেন, তার পক্ষে তার কোনো আত্মীয় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন, সহায়তাকারী হিসেবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।

অফশোর ব্যাংকিয়ের ক্ষেত্রে কোন ঋণসীমা বেঁধে দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, যেকোনো পরিমাণ ঋণ নিতে পারবে।

আরও পড়ুন

শপথ নিলেন সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী এমপি

সমসাময়িক আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে এটি বাংলাদেশে প্রথম ইপিজেডে শুরু হয়, সেখানে কিন্তু কারেন্ট অ্যাকাউন্টের মতো কোন ইন্টারেস্ট দেওয়া হয় না। এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ে ইন্টারেস্ট দেওয়া হবে। ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারলে, ব্যাংকের নরমাল ব্যবসার প্রয়োজনে সে যখন বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে তার তুলনায় ব্যয় কম হবে।

মাহবুব হোসেন বলেন, বহু দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ও আর্থিক কাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। তারা শত শত বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট পেয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশিরা বালাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যখন টাকা জমা রাখে, তখন কিন্তু টাকা নিয়ে যেতে পারমিশন নিতে হয়। অফশোর হলে স্বাধীনভাবে এটা অপারেট করা যাবে। এখানে ব্যবসা করে যারা লাভবান হবে, তারা এখানে টাকা রাখতে আগ্রহী হবে বলে আমরা আশা করছি। শুধু রিজার্ভ বাড়াতেই এটি করা হচ্ছে না। অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হব, সেজন্য আমরা এটি করছি।

আইন অনুযায়ী ওই অ্যাকাউন্টে যে লেনদেন হবে, সেই সুদের ওপর কোন শুল্ক আরোপ করা হবে না বলে জানিয়ে সচিব বলেন, ইকোনমির দিকে তাকিয়ে এটি চালু করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেক দেশ সুফল পেয়েছে।

এমআর