জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
পুলিশের পোশাক পরে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বাবুল ওরফে হারুন। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করতে গিয়ে তার আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন এই তথ্য।
আশরাফ হোসেন জানান, গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে চিকিৎসক দেখিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন সম্পর্কে জানতে হারুন নামের পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির কাছে সহযোগিতা চান নরসিংদীর হেলেনা বেগম। হারুন সহযোগিতা করার পাশাপাশি হেলেনার মোবাইল নম্বর রেখে দেন। এমনকি পরের দিন আবারও ডাক্তার দেখাতে আসবেন এই তথ্যও জেনে নেন। পরদিন হেলেনাকে ফোন করে ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে আসার তথ্য নিশ্চিত হয় হারুন। ১৩ জানুয়ারি হেলেনা ও তার বান্ধবী রিনা বেগম ডাক্তার দেখাতে ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে আসেন। এই সময় হাসপাতালের সামনে এসে তারা হারুনকে দেখতে পান। হারুন হাসপাতালের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হেলেনাকে ডাক্তার দেখাতে সহযোগিতা করেন। এই সময় রিনা ও হারুন বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে রিনা হাতের ব্যাগ রেখে টয়লেটে যান। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন পুলিশের পোশাক পরিহিত হারুন আর নেই। তার ব্যাগে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন রাখা ছিল। এরপর হারুন খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে ধানমণ্ডি মডেল থানায় মামলা করেন হেলেনা।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামলাটি তদন্তে নেমে অভিযুক্ত হারুনকে শনাক্ত করে পুলিশ। সোমবার রাজধানীর বিমানবন্দরের গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া পুলিশ পরিচয় দেওয়া হারুনকে গ্রেফতার করা হয়।
হারুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, হারুন নিজেকে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানার এসআই হিসেবে পরিচয় দিতেন। এসআই পরিচয় দিয়ে হারুন শিউলি বেগমের সাথে এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক করেন। প্রায় দুই মাস আগে বিয়েও করেন। হারুন পুলিশ পরিচয়ে ও পোষাক পরিহিত অবস্থায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আরও অনেক ধরনের অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা এবং বিভিন্ন অপরাধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ধানমণ্ডি থানার মামলায় হারুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এমআইকে/জেবি