লাইফস্টাইল ডেস্ক
০১ মার্চ ২০২২, ০২:২২ পিএম
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আগামীতে তারাই নেতৃত্ব দেবে জাতিকে। শিশুদের সবল করে তুলতে তাদের প্রতি যত্ন নিতে হবে একটু বেশি। অনেক মা যত্ন নেওয়া বলতে শুধু পেট ভরে খাওয়ানোকেই বোঝেন! কিন্তু শিশুকে পেটপুরে খাওয়ানোর চেয়ে তার জন্য পুষ্টিকর খাবার দেয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, পুষ্টিকর খাবার শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়ক।
এক এক বয়সের বাচ্চাদের এক এক রকম পুষ্টির চাহিদা থাকে। শিশুরা যেনো সারাদিন গ্রহণ করা খাবার থেকে দরকারি সমস্ত পুষ্টি পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে শিশুদের ওজনের সমস্যা (ওবেসিটি/ আন্ডার ওয়েট) দূর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। শিশু হয়ে উঠবে সুস্থ সবল। আজকে আলোচনা করবো বাড়ন্ত শিশুর জন্য পুষ্টিকর আটটি খাবার নিয়ে। ডিম
ডিম উচ্চ প্রোটিন ও ভিটামিনের অন্যতম উৎস। ডিমে রয়েছে অপরিহার্য পুষ্টি যা মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে। বাড়ন্ত শিশুকে ডিম সেদ্ধ করে বা ভেজেও খাওয়ানো যাবে। স্যুপ, পোরিজ, গ্রেভি, ভাত এবং নুডুলসেও দিতে পারেন ডিম। এমনকি ডিম দিয়ে কাস্টার্ডের মতো ডেজার্ট তৈরি করেও শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

গরুর দুধ
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অন্যতম উৎস গরুর দুধ, যা হাড় ও পেশি গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুকে দুই বছরের আগে গরুর দুধ না দেওয়াই ভালো। শিশুর চাহিদা অনুযায়ী তাকে দুধ খাওয়াতে হবে।
সকালের নাস্তায় সিরিয়াল বা কুকিজের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খাওয়ান। মিল্ক শেক বা বিভিন্ন ফলের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে পরিবেশন করুন।
বাদামের মাখন
মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ চীনাবাদামের মাখন শিশুর শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটায়। বাজার থেকে কিনে আনা মাখনে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, পামওয়েল এবং আংশিক হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট থাকে, যা পুষ্টির গুণমানকে হ্রাস করে। তাই বাসায় বাদামের মাখন তৈরি করে শিশুকে খাওয়ান। বাড়ন্ত শিশুর জন্য দৈনিক ২ চা চামচ বাদামের মাখনই যথেষ্ট।
শস্যদানা
হোল গ্রেইন বা আস্ত শস্যদানায় ফাইবার রয়েছে, যা শিশুর হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। শিশুকে ওটস কিংবা ওটসের তৈরি বিস্কুট ঘরে তৈরি করে খাওয়ান। তাদের এগুলোয় অভ্যস্ত করে তুলতে মিহি শস্যের (সাদা চাল বা সাদা রুটি) সঙ্গে সম্পূর্ণ শস্য (বাদামি চাল বা পুরো শস্যের রুটি) মিশিয়ে খাওয়ান।
মাছ ও মাংস
এই দুই খাবারে প্রচুর আয়রন, জিংক এবং ফসফরাস থাকে। যা শিশুর মস্তিষ্ক, হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়তা করে। রান্না করে, মাংসের কিমা করে, নাগেটস বা শিশুর খাবারের উপযোগী করে পরিবেশন করুন। দৈনিক ৩০ গ্রাম অথবা মিডিয়াম সাইজের দুই পিস মাছ ও মাংস শিশুকে পরিবেশন করুন।
পনির
প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ পনির স্বাস্থ্যকর, যা হাড় শক্তের জন্য দারুন সহায়ক।
মোজেরেলা চিজ স্লাইস, কিউব বা স্ট্রিংগুলোতে পনির মেশান। রুটি বা পিজ্জাতে পনির টোস্ট করতে পারেন (এটি গন্ধ কমিয়ে দেয়), অথবা পাস্তা, ভাজা ভাত বা নুডলসের ওপর ছেঁকে ছিটিয়ে দিতে পারেন।
রঙিন ফল ও সবজি
শিশুকে রঙিন ফল ও সবজি খেতে দিন। এগুলো হতে পারে গাজর, ব্রকলি, কুমড়া, মিষ্টিআলু, টমেটো এবং পেঁপে। এসব খাদ্যে ক্যারোটিন এবং অন্যান্য ক্যারোটিনয়েড বেশি থাকে, যা শরীরে সক্রিয় ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন ‘এ’ ত্বক ভালো রাখতে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। শরীরের টিস্যু মেরামতের জন্যও এসব খাবার অপরিহার্য।
রঙিন শাকসবজি কিউব করে কাটুন। সাসলিক স্টিকে ভাজুন। এরপর শিশুকে পরিবেশন করুন। নুডুলস কিংবা ভাতের সঙ্গে সবজি ভেজে খেতে দিতে পারেন। শিশুর জন্য সবজির স্যুপও বানাতে পারেন। ভাজতে পারেন পাকোড়া। যেভাবেই খাওয়ান না কেনো পুষ্টি পাবে শিশু।
মাখন ও তেল
মাখন ভিটামিনের আশ্চর্যজনক উৎস। এক টেবিল চামচ মাখনে ৪০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ‘এ’, অল্প পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘বি-১২’ এবং ভিটামিন ‘কে-২’ রয়েছে। শিশুর বৃদ্ধিতে প্রতিদিন ১/২ চা চামচ মাখন রাখুন।
লেখক
বিএসসি, এমএসসি (নিউট্রিশান অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি)
স্পেশালি ট্রেইনড অন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াটেটিক্স (বারডেম হাসপাতাল)
অনুলিখন: আসাদুজ্জামান লিমন
এজেড/এমআর