লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
চুলের খাদ্য তেল-এ কথাটি মা-নানীদের মুখে কমবেশি আমরা সবাই শুনেছি। তবে ইদানীং চুলে তেল মাখার চেয়ে ডায়েটে স্বাস্থ্যকর তেল যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। চুলের পুষ্টি যোগানোর এই ধারণাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে একইসঙ্গে এসব ধারণার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন জাগছে অনেকের মনে- চুলে তেল মাখার পরিবর্তে তেল খেয়ে চুলের পুষ্টি যোগানোর বিষয়টি কি শুধুই ‘মিথ’ নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ‘সত্য’ আছে? চলুন জেনে নিই-
বিজ্ঞান কী বলে?

চুলের খাদ্য তেল, এ বিষয়টি পুরোপুরি সত্য এবং বৈজ্ঞানিক বলে দাবি করেন চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদরা। আমেরিকার বিখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলের স্বাস্থ্য মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। আমাদের চুল ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আর চুলের ফলিকলগুলো সরাসরি শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্ত সঞ্চালন থেকে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে।
আরও পড়ুন: অকালে চুল পাকা রোধ করতে ৪ ঘরোয়া উপায়
তাই তারা চুলের বাহ্যিক যত্নের চেয়ে খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক তেল রাখার পরামর্শ দেন। কেননা, এসব উপাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে চুলকে ভেতর থেকে পুষ্ট যোগায়।

চুলের যত্নে ওমেগা-৩ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে প্রাকৃতিকভাবে চুলকে কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এর সেরা উৎস হলো তিসির বীজ বা ফ্ল্যাক্সসিড। এই বীজ চিবিয়ে খেলে বা এর তৈরি জেল চুলে ব্যবহারে চুলের ফলিকল শক্তিশালী হয়, চুল পড়া দ্রুত কমে এবং নতুন চুল গজায়।
আরও পড়ুন: চুলের যত্নে কতটা উপকারী তিসিবীজ?
হার্ভার্ড ও মায়ো ক্লিনিকের পরামর্শ

হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং মায়ো ক্লিনিকের ডায়েটেশিয়ানদের মতে, সালাদ কিংবা রান্নায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, কাঠবাদামের তেল বা আখরোটের তেল ব্যবহার করলে তা শরীরের প্রদাহ কমায়। এছাড়া, এই তেল চুলের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের আগা ফাটা ও ভেঙে যাওয়া রোধ করে। চুলকে করে তোলে রেশমের মতো মসৃণ।
তাই, চুলের যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে শুধু বাহ্যিকভাবে দামি পণ্য ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এতে ভেতর থেকে সঠিক পুষ্টি যোগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর এটি সম্ভব প্রতিদিনের ডায়েটে পরিমিত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক তেল রাখার মাধ্যমে।
এএ