ফিচার ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর অনেকের মন মিষ্টিজাতীয় কিছুর খাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। হুট করে মিষ্টি খাওয়ার এই তীব্র ইচ্ছাকে সুইট ক্রেইভিংস বলা হয়। মাঝেমধ্যে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি অভ্যাসে পরিণত হলে এবং সেটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সুইট ক্রেইভিংস কেন হয়?
মিষ্টি খাওয়ার এই তীব্র বাসনার পেছনে আমাদের শরীর ও মনের কিছু পরিবর্তন দায়ী। টানা দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে কিংবা খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ফাইবার না থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। শরীর তখন তাৎক্ষণিক শক্তির যোগানোর জন্য মিষ্টি খোঁজে।
মানসিক চাপে থাকলে আমাদের শরীর থেকে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয় যা কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়।

এছাড়া, ঘুমের ঘাটতি হলেও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটিও সুইট ক্রেইভিংসের অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন: দিনের কোন সময়ে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে না?
তাৎক্ষণিক করণীয়
যখনই মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখনই নিজেকে সামলাতে এই কৌশলগুলো অবলম্বন করুরন-
পানি পান করুন: অনেক সময় শরীর তৃষ্ণার্ত থাকলে মস্তিষ্ক ভুল করে ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। তাই সুইট ক্রেইভিংস হলেই শুরুতেই এক গ্লাস পানি পান করে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
আরও পড়ুন: মাছ-মাংসের মতো হিসেব করে খেতে হবে ফলও
স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাবার খুঁজুন: প্রক্রিয়াজাত বা চিনিযুক্ত খাবার না খেয়ে আপেল, কলা বা পেয়ারার মতো প্রাকৃতিক মিষ্টিযুক্ত ফল খেতে পারেন। ফলমূল খেতে ইচ্ছে না করলে দুটি খেজুর অথবা এক টুকরো ডার্ক চকোলেটও খেতে পারেন।
দাঁত ব্রাশ করুন: মিন্ট ফ্লেভারের টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে মুখের স্বাদ বদলে যায়। এতে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছেও কম হয়।
মিষ্টি খাওয়ার সঠিক সময়
দুপুরের সুষম খাবারের ঠিক পরে সামান্য মিষ্টি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ বলে জানান পুষ্টিবিজ্ঞানীরা। এছাড়া সকালে অল্প পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া যেতে পারে। এসময় মেটাবলিজম সক্রিয় থাকায় তা সহজেই বার্ন হয়।
আরও পড়ুন: হার্ট ভালো রাখতে যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না
তবে খালি পেটে কিংবা গভীর রাতে ঘুমানোর আগে মিষ্টি খাওয়া একদমই অনুচিত। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই তীব্রভাবে কমে-বাড়ে এবং ক্যালোরি সরাসরি চর্বি হিসেবে জমা হয়।
প্রতিদিন খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন রাখলে এবং দৈনিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম হলে দীর্ঘমেয়াদে সুইট ক্রেইভিংস দূর করা সম্ভব।
এএ