লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর কিউই ফল পুষ্টিগুণের এক অনন্য ভাণ্ডার। ডেঙ্গু বা টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের প্লাটিলেট বাড়াতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই ফলের জুড়ি মেলা ভার।
এছাড়া উচ্চমাত্রার ফাইবার ও পটাশিয়াম হজমশক্তি উন্নত করার পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মূলতঃ চীন ও এর আশেপাশের দেশগুলোতে কিউই চাষ হলেও, বর্তমানে বাংলাদেশেও সফলভাবে এই ফল চাষ হচ্ছে এবং গাছে চমৎকার ফলও ধরছে। চড়া দামের কারণে বাজার থেকে না কিনে আপনিও খুব সহজেই বাড়ির ছাদে বা টবে এই পুষ্টিগুণে ভরপুর বিদেশি ফল ফলাতে পারেন।

চাষের উপযুক্ত সময় ও আবহাওয়া
কিউই চাষের জন্য ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে অনুকূল। গাছ লাগানোর জন্য বছরের দুইটি সময় সবচেয়ে উপযুক্ত, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শীতের শেষ দিক অথবা জুলাই থেকে অগাস্ট অর্থাৎ বর্ষার সময়। সঠিক আবহাওয়া ও পরিচর্যা পেলে এটি খুব ভালোভাবেই বেড়ে ওঠে।

মাটি ও টব প্রস্তুত করার নিয়ম
টবে কিউই গাছ লাগানোর জন্য হালকা ও ঝুরঝুরে মাটি প্রয়োজন। মাটির সঙ্গে কিছু পাথর, গাছের পচা পাতা, ৫০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম পাউডার, ২৫০ গ্রাম নিম খোল, ধানের তুষ এবং লিফ কম্পোস্ট ভালোভাবে মিশিয়ে পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য অন্তত ১৮ ইঞ্চির টব নির্বাচন করতে হবে। চারা রোপণের পর দুই মুঠ অর্গানিক ফ্রুটিং মিক্স ফার্টিলাইজার দিয়ে টবে পর্যাপ্ত পানি দিতে হবে।

চারা নির্বাচন ও পরাগায়নের কৌশল
নার্সারি থেকে হাইব্রিড গ্রাফটিং করা চারা কেনা সবচেয়ে ভালো, যা দ্রুত ফল দেয়। তবে কিউই চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পুরুষ ও স্ত্রী, উভয় ধরনের গাছই একসঙ্গে রোপণ করা। সাধারণত ৬ থেকে ৮টি স্ত্রী গাছের মাঝে একটি পুরুষ গাছ লাগাতে হয়, কারণ শুধু স্ত্রী গাছ লাগালে ফল ধরবে না। দেশি প্রজাতিতে ফল আসতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগলেও হাইব্রিড বা ফুল ধরার পর্যায়ের চারা আনলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
গাছের যত্ন ও পরিচর্যা
কিউই গাছ মূলত লতানো প্রকৃতির হয়, তাই গাছের চারপাশে বাঁশ বা নেটের কাঠামো তৈরি করে লতাগুলো সোজা করে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তা বেঁকে বা জট পাকিয়ে না যায়। গরমে মাটি আর্দ্র রাখতে হবে তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। প্রথম এক বছর গাছের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। মাসে একবার গোবরের পচা সার, ভার্মি কম্পোস্ট বা জৈব সার দিতে হবে। এছাড়া মাটিতে শস্যের খোল, রান্নাঘরের বর্জ্য কম্পোস্ট এবং মাঝেমধ্যে পাতলা দইয়ের পানি ব্যবহার করলে গাছে থোকা থোকা ফল ধরতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: Kiwi: হার্টের বন্ধু এই বিদেশি ফল
ফলন ও রোগ দমন
স্কেল পোকা, লিফ রোলার ও মাইটের আক্রমণ থেকে গাছ বাঁচাতে নিয়মিত গাছের মরা পাতা তুলে ফেলতে হবে এবং নিম তেল স্প্রে করতে হবে। সাধারণত আড়াই বছর বয়স থেকেই গাছে নতুন শুট বা শাখা বের হতে শুরু করে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কিউই ফল পেকে যায়। ফল তোলার পর ডিসেম্বর মাসে স্ত্রী গাছ এবং জুনের শেষ দিকে ফুল আসার পর পুরুষ লতা ভালোভাবে ছাঁটাই করতে হবে। প্রথম তিন বছর একটু বেশি যত্ন নিলে একটি সুস্থ কিউই গাছ প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দিতে পারে এবং একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ১০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব।
এজেড