Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম: অপনার অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

পকেটে ফোন ভাইব্রেট না করলেও কাঁপুনি অনুভব করা বা ফোন না বাজলেও রিংটোন শোনার মতো সমস্যায় বর্তমানে অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিদ্যার ভাষায় একে ‘ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’ বলা হয়, যা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে ‘রিংগিং সিনড্রোম’ নামেও পরিচিত।

স্মার্টফোনে আসক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা যায়। এটি কোনো মানসিক অসুস্থতা নয়, বরং দিবারাত্র ডিজিটাল মাধ্যমে ডুবে থাকার কারণে মস্তিষ্কের ক্লান্তি ও শব্দবিভ্রম।

syndrom

আরও পড়ুন: রিলস স্ক্রল করার অভ্যাসে হতে পারে বুড়ো আঙুলের মারাত্মক ব্যথা

মস্তিষ্কের সঙ্কেতের গোলমাল

মস্তিষ্ক কেবল ইন্দ্রিয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না, এর নিজস্ব অনুমান করার ক্ষমতাও রয়েছে। যখন কেউ ফোন কল বা মেসেজের জন্য অপেক্ষা করেন, তখন মস্তিষ্ক ধরে নেয় যে ফোন আসবে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবচেতনে সেই সঙ্কেত তৈরি হওয়ায় ইন্দ্রিয়ের বোঝার ভুল হয়। অন্যদিকে, মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্স স্পর্শের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। সারাক্ষণ ফোনে ডুবে থাকার কারণে এই অংশের স্নায়ুগুলি উদ্দীপিত থাকে, ফলে ত্বকের স্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন ঘটলেও তা ফোনের ভাইব্রেশন বলে ভুল হয়।

images_(4)

শ্রবণজনিত বিভ্রান্তি ও প্রভাব

ফোন না বাজলেও হঠাৎ রিংটোন শোনার এই প্রবণতাকে ‘অডিটরি প্যারিডোলিয়া’ বা শ্রবণজনিত বিভ্রান্তি বলা হয়। মস্তিষ্কের অডিটরি কর্টেক্স অস্পষ্ট শব্দের মধ্যে পরিচিত সুর খোঁজার চেষ্টা করায় এই বিভ্রাট ঘটে। গবেষকদের মতে, স্মার্টফোনের এই অত্যধিক আসক্তি মানুষের চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বদ্লে দিচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং ব্রেন ফগের মতো সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এজেড