লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম
অফিসে কাজ করতে করতে কখন যে অজান্তেই এক পা অন্য পায়ের নিচে গুটিয়ে বসে পড়েন, তা অনেকেই খেয়াল করেন না। কারও কাছে এটি আরামদায়ক, কারও কাছে দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সহজ উপায়। কিন্তু যে ভঙ্গিতে বসে নিজেকে সবচেয়ে স্বস্তিতে মনে হচ্ছে, সেটিই হয়তো ধীরে ধীরে কোমর, নিতম্ব ও মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে পিঠব্যথা, শরীরের ভারসাম্যহীনতা এমনকি চলাফেরাতেও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
হাড়জোড়া রোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অনেকেই চেয়ারে বসে একটি পায়ের গোড়ালি বিপরীত দিকের উরুর নিচে গুঁজে রাখেন। বাইরে থেকে এটি নিরীহ অভ্যাস মনে হলেও এতে শরীরের ওজন সমানভাবে দুই পাশে বণ্টিত হয় না। ফলে একটি নিতম্বে তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে, পেলভিস বা শ্রোণিচক্রের অবস্থান বদলে যায় এবং মেরুদণ্ডকে সেই ভারসাম্য রক্ষা করতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে বসে থাকলে কোমরের পেশি ও লিগামেন্টে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু একটি ভঙ্গি নয়, বরং একই ভঙ্গিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে থাকা। আমাদের মেরুদণ্ড এমনভাবে তৈরি যে এটি নড়াচড়ার জন্য উপযোগী। শরীরকে দীর্ঘ সময় এক অবস্থায় আটকে রাখলে পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রক্তসঞ্চালন কমে যায় এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অংশে চাপ জমতে থাকে। তাই কোনো একটি ভঙ্গিকে "সবচেয়ে ভালো" ধরে নিয়ে সারাদিন সেভাবেই বসে থাকা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করা মানুষদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরপর অন্তত বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করা। আর প্রতি ঘণ্টায় এক থেকে দুই মিনিটের জন্য হলেও উঠে দাঁড়ানো, কয়েক কদম হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করা উচিত। এতে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে, পেশির ক্লান্তি হ্রাস পায় এবং শরীর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়।

সঠিক কর্মপরিবেশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারের উচ্চতা এমন হওয়া দরকার যাতে পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা যায়। কোমরের স্বাভাবিক বাঁক ধরে রাখতে পিঠের যথাযথ সমর্থন থাকা উচিত। কম্পিউটারের পর্দা চোখের সমতলে থাকলে ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে কাজ করার প্রবণতা কমে। আর ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় কাজ করলে আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করলে শরীরের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই ব্যথা শুরু হওয়ার পর ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি খোঁজেন। কিন্তু যদি প্রতিদিনের বসার অভ্যাসে পরিবর্তন না আসে, তাহলে একই সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে যারা দিনের বড় একটি অংশ ডেস্কে বসে কাটান, তাদের জন্য নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম এবং শরীরচর্চাকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করা জরুরি।

আধুনিক কর্মজীবনে কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো অনেকের জন্যই অনিবার্য। তাই কাজের ধরন বদলানো সম্ভব না হলেও বসার অভ্যাস বদলানো সম্ভব। ছোট ছোট সচেতনতা, নিয়মিত নড়াচড়া এবং সঠিক ভঙ্গি মেনে চলার মাধ্যমে কোমর ব্যথাসহ মেরুদণ্ডের নানা সমস্যা অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া যায়। শরীর যখন অস্বস্তির সংকেত দেয়, তখন সেটিকে অবহেলা না করে সময়মতো অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই হতে পারে সুস্থ কর্মজীবনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এনএম