Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

ত্বকের জন্য কোনটি উপকারি— গামছা না কি তোয়ালে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

সকালে মুখ ধোয়ায় পর কিংবা গোসলের পর শরীর মোছার কাজে বাঙালি সংস্কৃতিতে বহুযুগ ধরে জড়িয়ে রয়েছে গামছা। লাল-নীল, লাল-হলুদ কিংবা হলুদ-সবুজ চেকের গামছা প্রায় সব বাড়িতে এখনো দেখা যায়। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় গামছাকে এক কোণে ঠেসে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে নরম তুলতুলে তোয়ালে বা বাথ টাওয়েল। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারি? ঐতিহ্যবাহী গামছা না কি আধুনিক তোয়ালে? চলুন জেনে নিই- 

gamcha_1

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি (The Ohio State University) এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যবহৃত কাপড়ের হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একটি গবেষণা চালান।

এই গবেষণায় দেখা যায়, তোয়ালে মূলত মোটা এবং ভারী ‘টেরি ক্লথ’ (Terry Cloth) বা পলিয়েস্টার মিশ্রিত সুতো দিয়ে তৈরি হয়। এর বুনন ঘন হওয়ায় এটি প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু সহজে শুকাতে চায় না। বাথরুমে বা ঘরের ভেতরের আর্দ্র (Humid) পরিবেশে ভেজা তোয়ালে দীর্ঘক্ষণ থাকলে তাতে দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন: E. coli বা Staphylococcus) এবং ফাঙ্গাস বংশবৃদ্ধি করে।

gamcha_2

অন্যদিকে, গামছা তৈরি হয় শতভাগ খাঁটি সুতি সুতো দিয়ে। এর বুনন হয় পাতলা ও হালকা। তাই গামছা দিয়ে বাতাস সহজেই এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। ব্যবহারের পর গামছা অত্যন্ত দ্রুত শুকিয়ে যায়। গবেষণাগারে দেখা গেছে, দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার এই ক্ষমতার কারণে গামছায় ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধার সুযোগ তোয়ালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম থাকে।

আমাদের গায়ের ত্বক প্রতিনিয়ত মরা চামড়া বা ডেড স্কিন সেল ত্যাগ করে। গোসলের পর নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছলে ত্বক আরাম পায় ঠিকই, কিন্তু মরা চামড়া পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। অপরদিকে, গামছার বুননে যে হালকা খসখসে ভাব বা টেক্সচার থাকে, তা প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের দুর্দান্ত ‘এক্সফোলিয়েটর’ হিসেবে কাজ করে। 

towel

গামছা দিয়ে হালকা হাতে শরীর মুছলে ত্বকের উপরিভাগের মরা চামড়া এবং রোমকূপে জমে থাকা ময়লা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতেও সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- 
 
 
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে আমের জাদুকরী প্রভাব
তেলেতেলে ত্বক, ব্রণের সমস্যা? ফিটকিরি ব্যবহার করছেন না কেন!

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের পিঠে, বুকে বা মুখে ঘন ঘন ব্রণ (Acne) বা র‍্যাশ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য তোয়ালের চেয়ে গামছা অনেক বেশি নিরাপদ। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এবং স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে মুখে ছোঁয়ালে তোয়ালের ভেতরের ফাঙ্গাস ত্বকে স্থানান্তরিত হয়, যা ব্রণ ও ত্বকের অ্যালার্জি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গামছা পাতলা হওয়ায় এটি প্রতিদিন ধুয়ে ফেলা এবং রোদে শুকানো অত্যন্ত সহজ, যা তোয়ালের ক্ষেত্রে রোজ রোজ সম্ভব হয় না।

gamcha_3

মার্কিন গবেষকদের প্রকাশিত রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আর্দ্র জলবায়ুর (Tropical Climate) দেশগুলোতে— যেখানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে, সেখানে ভারী তোয়ালের চেয়ে পাতলা, দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন সুতির কাপড় ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি হাইজেনিক।

তোয়ালে হয়ত আমাদের সাময়িক আরাম দেয়, কিন্তু আবহাওয়া এবং ত্বকের সামগ্রিক সুরক্ষার নিরিখে শতভাগ সুতির হালকা গামছাই বেশি কাজের। তবে আপনি গামছা ব্যবহার করুন বা তোয়ালে— সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার তা ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে। কারণ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই কাপড়ের ভেতরের অদৃশ্য জীবাণু ধ্বংস করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

এনএম