নিশীতা মিতু
২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা, আবেগ আর সমর্থন প্রকাশের দারুণ এক উপলক্ষ। চার বছর অপেক্ষার পর আসে আনন্দের এই মুহূর্ত। প্রিয় দলকে সমর্থন জানানোর নানা কায়দায় মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিরা। এতদিন বিশ্বকাপের মৌসুমে সমর্থকদের পরিচয়ের প্রধান মাধ্যম ছিল জার্সি। এবার সেই প্রচলিত ধারায় রঙিন পালক হিসেবে যুক্ত হলো শাড়ির নাম।
প্রিয় দলের পতাকার রং, নকশা ও প্রতীক নিয়ে তৈরি শাড়ি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডা ও অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্মানির লাল-হলুদ-কালো কিংবা স্পেনের লাল-হলুদের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে নারীদের শাড়িতে। কেবল খেলা দেখাই নয়, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অভিনব এক মাধ্যম হয়ে উঠেছে শাড়ি।

বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগের প্রকাশ নতুন কিছু নয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা গলিতে বিশাল পতাকা টানানো, দেয়ালে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি আঁকা কিংবা জার্সি পরে খেলা দেখা—সবই পরিচিত দৃশ্য। সেসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের মধ্যে প্রিয় দলের পতাকার আদলে শাড়ি পরার প্রবণতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই উৎসবে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলভিত্তিক শাড়ি পরে ছবি পোস্ট করার প্রবণতা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। অনেকে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই দলের রঙের পোশাক পরে ছবি তুলছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রূপা ইসলাম বলছেন, ‘জার্সির পরিবর্তে শাড়ি পরে সমর্থন জানানো একদিকে যেমন নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, অন্যদিকে উৎসবের আমেজও বাড়িয়ে দেয়। আমার কাছে এটি একটি ইতিবাচক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।’
বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দেশীয় বুটিক ও অনলাইন উদ্যোক্তারাও। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ কালেকশন বাজারে এনে তারা ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান কাস্টমাইজড ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করছে, যেখানে ক্রেতারা নিজের পছন্দের দল, খেলোয়াড়ের নম্বর বা পতাকার নকশা যুক্ত করতে পারছেন।

বিশ্বকাপের উন্মাদনা হয়ত কয়েক সপ্তাহ পরেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু জার্সির পাশাপাশি শাড়িকে সমর্থনের নতুন ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার এই প্রবণতা হয়তো ভবিষ্যতের বড় ক্রীড়া আসরগুলোতেও দেখা যাবে। কারণ, ফুটবল শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এনএম