লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৮ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চর্চিত বিষয় হলো জার্সি নম্বর। মাঠে নামার আগে একজন খেলোয়াড় যখন তার প্রিয় বা নির্ধারিত নম্বরটি গায়ে জড়ান, তখন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং তার দায়িত্ব ও পজিশনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। যদিও বর্তমানে খেলোয়াড়রা পছন্দমতো নম্বর বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পান, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ফুটবল মাঠে জার্সি নম্বর দেখে খেলোয়াড়ের পজিশন ও গুরুত্ব বোঝার এক দীর্ঘ সংস্কৃতি রয়েছে। কেন ১ নম্বর জার্সি গোলকিপারের জন্য নির্ধারিত, কিংবা ১০ নম্বর জার্সি কেন ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নম্বর—সেই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করা হলো এই ফিচারে।
১ নম্বর: গোলকিপারের শেষ আশ্রয়স্থল
ফুটবল মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে গোলকিপারই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১ নম্বর জার্সি পরেন। শুরুর দিকে রক্ষণভাগকে শক্ত করার পাশাপাশি দলের ‘প্রথম’ বা ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তাকে সম্মান জানাতেই এই সংখ্যাটি দেওয়া হয়। যদিও বর্তমানে অনেক গোলকিপার ব্যতিক্রমী নম্বর (যেমন- ২৩) পরেন, তবুও ১ নম্বর জার্সি আজও গোলকিপারের জন্য সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী।

২ থেকে ৬ নম্বর: রক্ষণভাগের প্রহরী
জার্সি নম্বর ২ থেকে ৬ সাধারণত রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বা ডিফেন্ডারদের জন্য বরাদ্দ। ২ নম্বর জার্সিটি ঐতিহাসিকভাবে রাইট-ব্যাক বা ডান দিকের ডিফেন্ডারের। ৩ নম্বর জার্সি পরে থাকেন লেফট-ব্যাক বা বাম দিকের ডিফেন্ডার। ৪ এবং ৫ নম্বর জার্সি মূলত সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার বা সেন্টার-ব্যাকদের জন্য। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ নম্বর জার্সিটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররাও ব্যবহার করেন, যা দলের রক্ষণ ও মধ্যমাঠের সংযোগ রক্ষা করে।
আরও পড়ুন: ফুটবল খেলায় গোলকিপার কেন ১ নম্বর জার্সি পরেন?
৭ ও ৮ নম্বর: মধ্যমাঠের প্রাণ
৭ নম্বর জার্সিটি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক একটি সংখ্যা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কারণে এই নম্বরটি এখন বিশ্বজুড়ে সুপারস্টারদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাধারণত উইঙ্গার বা সেকেন্ড স্ট্রাইকাররা এটি পরেন। অন্যদিকে ৮ নম্বর জার্সিটি মিডফিল্ডারদের জন্য বরাদ্দ, যারা বক্স-টু-বক্স খেলেন এবং পুরো মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন।

৯ ও ১১ নম্বর: আক্রমণভাগের ধার
৯ নম্বর জার্সিটি দেওয়া হয় দলের মূল স্ট্রাইকারকে, যার কাজই হলো গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং বল জালে জড়ানো। রোনালদো নাজারিও বা রবার্ট লেভানডফস্কি এই নম্বরের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। ১১ নম্বর জার্সিটি সাধারণত লেফট-উইং বা আক্রমণভাগের বা-প্রান্তের খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত, যারা গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেন।
১০ নম্বর: ফুটবলের রাজকীয় সংখ্যা
ফুটবল মাঠে ১০ নম্বর জার্সিটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এটি সাধারণত দলের প্লে-মেকার বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের জন্য বরাদ্দ। পেলে থেকে ম্যারাডোনা, কিংবা লিওনেল মেসি—ফুটবলের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শিল্পীরা এই জার্সিটি পরেই নিজেদের জাদুকরী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। একজন বিচক্ষণ ফুটবলারই সাধারণত ১০ নম্বর জার্সি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন, যিনি মাঠের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করান।

জার্সি নম্বরের বিবর্তন ও নেদারল্যান্ডসের ব্যতিক্রমী রীতি
১৯১১ সালে যখন প্রথম জার্সি নম্বরের প্রচলন শুরু হয়, তখন মূল একাদশের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত জার্সি বরাদ্দ ছিল। ১৯৫৪ সালে ফিফা প্রথম একাদশ ও বদলি খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়। তবে ফুটবলের ইতিহাসে নেদারল্যান্ডসের ‘টোটাল ফুটবল’ এই রীতিতে নিয়ে আসে বড় পরিবর্তন। সেই কিংবদন্তি দলটিতে ইয়োহান ক্রুইফ ১০ নম্বর উপেক্ষা করে ১৪ নম্বর জার্সি বেছে নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়। মূলত খেলোয়াড়দের অবস্থানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই তারা প্রথাগত নিয়মের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন।
এজেড