Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

বাবার নীরব আত্মত্যাগ: আমাদের অদেখা গল্প

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২১ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম

পরিবারের সুখ, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের পেছনে যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন, তিনি হলেন বাবা। অথচ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আবেগ, চাওয়া-পাওয়া ও সমস্যার কথা যতটা গুরুত্ব পায়, বাবার অনুভূতি ও মানসিক অবস্থার কথা ততটা আলোচনায় আসে না। সমাজ যেন বাবাকে একটি দায়িত্ব পালনকারী যন্ত্র হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত।

একজন বাবা তাঁর সন্তানের ভালো শিক্ষা, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজের অসংখ্য স্বপ্ন বিসর্জন দেন। অনেক সময় তিনি নিজের শখ, ইচ্ছা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগই পান না। সংসারের ব্যয় মেটাতে, সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়।

আমাদের সমাজে পুরুষদের কষ্ট প্রকাশ করাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। ফলে একজন বাবা তাঁর মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশার কথা খুব কমই প্রকাশ করেন। চাকরির অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং বয়সজনিত নানা সমস্যার ভার তিনি একাই বহন করেন। বাইরে থেকে তাঁকে দৃঢ় ও অটল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তিনিও ক্লান্ত হন, ভেঙে পড়েন, কষ্ট পান।

বিশ্ব বাবা দিবস এলেই আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিই, ছবি শেয়ার করি এবং ভালোবাসার কথা লিখি। কিন্তু প্রকৃত সম্মান কেবল একটি দিনের উৎযাপনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাবার সঙ্গে সময় কাটানো, তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার খোঁজ নেওয়া এবং তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের দায়িত্ব।

বাবারা সাধারণত খুব বেশি কিছু চান না। তাঁরা চান সন্তানের ভালোবাসা, সম্মান এবং একটু আন্তরিক খোঁজখবর। তাই বাবা দিবস আমাদের শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; বরং বাবার নীরব আত্মত্যাগকে উপলব্ধি করার এবং তাঁর প্রতি আমাদের দায়িত্ব নতুন করে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কারণ পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটিরও প্রয়োজন ভালোবাসা, যত্ন এবং মানসিক সমর্থন।

লেখক: উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

এনএম