images

লাইফস্টাইল / চাকরি

আপনি কি অফিসের সব কাজে নাক গলান?

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক

১৯ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ঝকঝকে অফিসে আবিরের কাজ অ্যাকাউন্টস বিভাগে। আবির মানেই এক চলন্ত ক্যালকুলেটর—পাক্কা হিসেবি। নিজের কাজে সে এতটাই দক্ষ যে, যে কাজ শেষ করতে সহকর্মীদের দুই ঘণ্টা লাগে, আবির তা এক ঘণ্টাতেই শেষ করে ফেলে। ফলে তার হাতে থাকে অফুরন্ত সময়। এই সময়টা সে আয়েশ করে কফিতে চুমুক দিয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দিতে পারত। কিন্তু আবিরের স্বভাবটাই অন্যরকম। সে দেখল, কিছু বিভাগে কাজে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। কোথাও আবার লোকবলের অভাব। অফিসটাকে নিজের মনে করে আবির মনে মনে ঠিক করল, কাজের ফাঁকে সে অন্য বিভাগগুলোতেও হাত লাগাবে।

তার এই উদ্যোগে অফিসের কাজের গতি বাড়ল ঠিকই, কিন্তু বাঁধল বিপত্তি। যে বিভাগগুলোতে সে সাহায্য করতে গেল, সেখানকার কর্মীরা এটাকে ভালো চোখে দেখল না। তাদের কাছে আবিরের এই বাড়তি আগ্রহ ‘সাহায্য’ মনে হয়নি, মনে হয়েছে ‘নাক গলানো’ বা খবরদারি। তারা এটাকে তাদের কাজের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখল। অবশেষে যা হওয়ার তাই হলো—জোটবদ্ধ হয়ে সবাই বসের কাছে নালিশ ঠুকল।

কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি লম্বা—অনধিকার চর্চা, নিজের বিভাগের বাইরে খবরদারি এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি। বস আবিরের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বলেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেননি। তবে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিলেন। স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন, ‘জব রেসপনসিবিলিটি’ বা দায়িত্বের সীমারেখা কী। তবে বস এও যোগ করলেন, যদি হিসাব বিভাগের কাজ শেষে হাতে সময় থাকে এবং সহকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য চায়, কেবল তখনই সে অন্য বিভাগে হাত দিতে পারবে। এর বাইরে নয়।

images_(1)

আবিরের মতো এমন অনেক কর্মী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আছেন, যারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসায় নিজের গণ্ডি পেরিয়ে কাজ করতে চান। অনেক প্রতিষ্ঠান এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে, আবার অনেক জায়গায় এটাকে দেখা হয় নেতিবাচকভাবে।

ভালো দিক: প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও দক্ষতা

আবিরের মতো কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। তাদের বহুমুখী প্রতিভা বা ‘মাল্টিটাস্কিং’ ক্ষমতার কারণে প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়ে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। তারা কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করে দায় সারেন না, বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে নিজেদের অবদান রাখতে চান। এই বাড়তি প্রচেষ্টার জন্য তারা কোনো আলাদা সম্মানিও আশা করেন না।

মন্দ দিক: কর্পোরেট রাজনীতি ও ভুল বোঝাবুঝি

অন্যদিকে, এই আগ্রহ অনেক সময় সহকর্মীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। কেউ মনে করেন তাদের ওপর খবরদারি করা হচ্ছে, কেউ আবার মনে করেন তাদের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটি অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করে এবং টিমওয়ার্কের পরিবর্তে দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।

images_(2)

এমন পরিস্থিতিতে যারা আছেন, তাদের জন্য পরামর্শ

আপনি যদি আবিরের মতো হন, তবে আপনার আগ্রহের পাশাপাশি কৌশলী হওয়া প্রয়োজন:

১. অনুমতি চেয়ে নিন: কোনো বিভাগে সাহায্য করার আগে সেখান থেকে একজন সহকর্মী বা সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলুন। সরাসরি কাজ শুরু না করে জিজ্ঞেস করুন, ‘আপনার এই কাজে আমার কি কোনো সাহায্য প্রয়োজন?’ এতে খবরদারির ছাপ মুছে যায়।

২. সহযোগীর ভূমিকা পালন করুন: নেতৃত্ব দেবেন না, বরং সহকর্মী হিসেবে পাশে থাকুন। আপনার লক্ষ্য যেন হয় কাজের সমাধান করা, কমান্ড করা নয়।

৩. নিজের কাজ অগ্রাধিকার: নিজের মূল বিভাগের কাজে যেন কোনোভাবেই ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করুন। নিজের ঘরের খবর না নিয়ে অন্য ঘরে নাক গলালে বসও খুশি হবেন না।

৪. ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা: আপনার অতিরিক্ত কাজের ক্ষমতা সম্পর্কে সরাসরি আপনার বসকে জানান। তিনি যদি অনুমতি দেন, তবেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্য বিভাগে সহায়তা করার সুযোগ তৈরি হবে।

সহকর্মীদের মনোভাব যেমন হওয়া উচিত

অফিসে কেউ নিজের কাজের বাইরে এসে আপনাকে সাহায্য করতে চাইলে তাকে শত্রু না ভেবে বন্ধু ভাবুন। মনে রাখবেন, সে আপনার জায়গা দখল করতে আসছে না, বরং কাজের চাপ কমিয়ে আপনাকে স্বস্তি দিতে আসছে। তবে, যদি কেউ অতিরিক্ত খবরদারি করে, তবে সেটা ভদ্রভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন। কর্মক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক হতে পারলেই কাজের পরিবেশ আনন্দময় হয়।

এজেড