images

লাইফস্টাইল

মেয়াদ আছে বালিশেরও, কতদিন ব্যবহার করা উচিত? 

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক

১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গর্ব করেন অনেকে। ‘এই খাটের বয়স ৫০ বছর হলো’, ‘এই টেবিলটা আমার দাদা শ্বশুরের আমলের’, ‘এই বালিশটা আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই ব্যবহার করে আসছে’। আসলে বালিশ থেকে খাট বা পোশাক অনেকে এত যত্ন নিয়ে ব্যবহার করেন যে বছরের পর বছর তা অক্ষত আর সুন্দর রয়ে যায়। 

কিন্তু জানেন কি, ওষুধ বা প্রসাধনীর যেমন মেয়াদ আছে, তেমনি মেয়াদ আছে বালিশেরই। সম্প্রতি এমন তথ্যই জানিয়েছেন অস্থিরোগ চিকিৎসক। তার মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বালিশ নরম হয়ে যায়। তখন সেই বালিশে শুলে মাথা আর ঘাড়ের অবস্থাও ঠিক থাকে না। এছাড়া দিনের পর দিন ত্বকে লেগে থাকা ময়লা, ঘামও বালিশে লাগতে থাকে। ফলে সেই বালিশ বদলে ফেলার প্রয়োজন হয়। 

pillow_1

যে বালিশে শোয়া হয়, তাতে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে থাকে। বালিশে লাগে ঘাম। সেসঙ্গে ধুলো-ময়লা তো আছেই। চিকিৎসকরা বলছেন, সেই ধুলো-ময়লা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসেও পৌঁছে যায়। তাই একই বালিশ বছরের পর বছর ব্যবহারের কারণে বাড়ে ত্বকে সংক্রমণ আর ফুসফুসের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি। 

ঘুম, শোয়ার সময় সঠিক ভঙ্গিমা এবং স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর বালিশ বদলে ফেলা দরকার। এক এক ধরনের বালিশ এক এক রকম উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়। পলিয়েস্টার, তুলা, মেমরি ফোম— এক এক রকম উপাদানের বালিশের মেয়াদ এক এক রকম। জেনে নিন কোন বালিশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত- 

pillow_2

পলিয়েস্টার বালিশ: 

এমনিতে এই বালিশ বেশ নরম, আরামদায়কও। তবে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি এই বালিশ ৬ মাস থেকে ২ বছরের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। বালিশ কভার পরিয়ে বা না পরিয়ে, কতটা পরিচ্ছন্ন ভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার ওপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। খুব বেশি যত্ন নিলে বড়জোর ৩ বছর পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যায়। এর বেশি ব্যবহার করবেন না। 

কারণ, বার বার ব্যবহারে কৃত্রিম তন্তু সরে যায় বা আলগা হয়ে যায়, ফলে আগের অবস্থা আর থাকে না। ঘাড় থেকে মাথা রাখার পরে বালিশ আরামদায়ক বোধ হচ্ছে কি না, বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। যদি আরাম না লাগে তাহলে বুঝবেন বালিশ বদলের সময় হয়েছে। 

pillow_3

পালকের বালিশ: 

বিভিন্ন পাখির পালক ব্যবহার করে এটি তৈরি হয়। ভালোমানের বালিশের দামও যথেষ্ট। অত্যন্ত নরম, আরামদায়কও। পালকের বালিশের মেয়াদ আরও একটু বেশি। বছর ৫-১০ অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। যেহেতু এখানে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার হয় না, তাই এর স্থায়িত্ব বেশি। ভালো পালকের বালিশ কেনার জন্য (রেসপন্সিবল ডাউন স্ট্যান্ডার্ড) সার্টিফিকেট দেখে কিনুন। 

মেমরি ফোম বালিশ: 

আধুনিক নানা রকম বালিশের মধ্যে মেমরি ফোম বালিশও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঘুমের সময়ে ঘাড়, কাঁধের অবস্থান সঠিক রাখতে এই ধরনের বালিশ বেশ কার্যকর। সাধারণ বালিশের তুলনায় এগুলোর স্থায়িত্ব বেশি। অল্প কয়েক দিন ব্যবহারে বেশি নরম হয়ে যায় না বা চেপ্টে যায় না।

মোটামুটি ৫ বছর ব্যবহার করতে পারেন বালিশটি। ঘাম থেকে যাতে ব্যাকটেরিয়া না জন্মায়, তাই বালিশে সবসময় সুতির কভার পরিয়ে রাখা দরকার। গরমকালে সেই কভার দু-তিন দিন অন্তর কাচাও জরুরি।

pillow_4

শিমুল তুলার বালিশ: 

সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এই বালিশ। অত্যন্ত নরম। প্রাকৃতিকও। ২-৩ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা চলে এই বালিশ।। তবে তুলা দলা পাকিয়ে গেলে বা তুলা থেকে বীজ আলাদা হয়ে গেলে বালিশ পাল্টানো প্রয়োজন।

এনএম