১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
আমাদের চারপাশে সাধারণত দুই ধরনের মানুষ দেখা যায়। একদল একই বন্ধুদের সঙ্গে সারা জীবন কাটিয়ে দেন। আরেক দল প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বন্ধু বানাতে গিয়ে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আপনি কি দ্বিতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত? তাহলে জেনে নিন কেন আপনার বন্ধুত্ব স্থায়ী হয় না।
১. অতিরিক্ত মিল খোঁজা: স্বভাবতই আমরা নিজেদের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন মানুষদের সঙ্গ পছন্দ করি। একই ক্লাসে পড়া, একই অফিসে কাজ করা কিংবা একই ধরনের শখ থাকাকে আমরা সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রধান শর্ত মনে করি। তবে বাস্তবে এই ধারণা প্রায়ই ভুল প্রমাণিত হয়।
২. সময়ের অভাব: বর্তমান সময়ে দুর্লভ সম্পদ হলো সময়। আমাদের সবকিছু থাকলেও একে-অপরের জন্য সময় বের করা হয় না। আর এই সময়ের অভাবেই অনেক বন্ধুত্ব অকালেই ঝরে যায়।
৩. অগ্রাধিকার বুঝতে না পারা: আপনি যখন একটি চারা রোপণ করেন, সেটি গাছে পরিণত হয়ে ফল দিতে অনেক বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক সময়। যেমন, ভুল ঋতুতে ভুল বীজ বা চারা রোপণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তেমনি জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় ও সময়ের কারণে অনেকের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব বেশি দূর এগোতে পারে না।
কেউ যখন সংসারের দায়িত্ব ও চিন্তায় ব্যস্ত, তখন হয়তো আপনি ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী। এই ভিন্নধর্মী অগ্রাধিকারের কারণে একে-অপরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
৪. অংশীদারিত্বের অভাব: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছেন, বন্ধুত্ব মূলত একটি অংশীদারিত্ব। সেখানে উভয় পক্ষকেই সমানভাবে অবদান রাখতে হয়। এভাবেই একটি সম্পর্ক এগিয়ে যায়। তবে এমন সময়ও আসে, যখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একজনকে অন্যজনের তুলনায় অনেক বেশি চেষ্টা করতে হয়। এই অসমতা থেকেই সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে।
৫. অতি প্রত্যাশা: মানুষের বড় শত্রু হলো অন্যের প্রতি তার সীমাহীন প্রত্যাশা। অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের সব প্রত্যাশা কোনও এক বন্ধুকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। এদিকে, একজন মানুষের পক্ষে সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। এই অবাস্তব প্রত্যাশাই আমাদের হতাশ করে এবং সম্পর্কে চিড় ধরায়।
সম্পর্ক নষ্টের দায় কি শুধু আপনার?
না, তা নয়। সব সময় এই দায় আপনার একার নয়। ১৯৫০ সালের একটি গবেষণায় সমাজবিজ্ঞানীরা বন্ধুত্ব গঠনের তিনটি পূর্বশর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, দুজন মানুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব কম থাকা, পরিকল্পনা ছাড়াও নিয়মিত দেখা হওয়া এবং একে-অপরের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেশার সুযোগ থাকলে একটি সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে এসব শর্ত পূরণ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা মানুষের সামাজিক আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এখন অনেকেই কারও সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সময় ব্যয়ের পরিবর্তে সহজ ও সাময়িক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেন। যোগাযোগের অর্থও অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে কারও পোস্টে লাইক দেওয়া, মন্তব্য করা বা শেয়ার করার মধ্যে।
আপনি যদি আপনার বন্ধুদের হারাতে না চান, তাহলে উপরের কারণগুলো নিয়ে ভাবুন। মনে রাখবেন, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আপনার আন্তরিকতা ও ইচ্ছাশক্তিই পারে বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখতে। বন্ধুদের পাশে থাকুন, তাদের হারিয়ে যেতে দেবেন না।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এজেড