লাইফস্টাইল ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
গরম যখন চরমে, এসি (এয়ার কন্ডিশনার) রুম তখন স্বস্তির উপলক্ষ। মিটিং থেকে শুরু করে অবসর সময় কাটানো সবই চলছে তাই এসি রুমে। অনেকেই এসি রুমে বসেই তাই সিগারেটে সুখটান দিচ্ছেন। কাজটি তাদের কাছে বেশ আরাম ও প্রশান্তির। অলসতায় ঘরের ভেতরেই জ্বালাচ্ছেন দেশলাই কাঠি বা লাইটার। কিন্তু ক্ষণিকের এই ভালোলাগা জীবনযাত্রায় কী প্রভাব ফেলতে পারে তা কখনো ভেবে দেখেছেন?
কেবল শরীর নয়, স্বল্প সময়ের এই অভ্যাস নিঃশব্দে ক্ষতি করছে এসিরও। বাড়াচ্ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। কীভাবে? চলুন জেনে নিই-

বদ্ধ ঘরে এসি চললে ভেতরের বাতাসই বারবার রিসাইকেল হতে থাকে। এসময়ে সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা চটচটে নিকোটিন সরাসরি শুষে নেয় এসির ফিল্টার ও এভাপোরেটর কয়েল। ফলে ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশে তৈরি হয় একটি চটচটে কালচে আস্তরণ। এই আস্তরণ বাইরের ধুলোবালিকে আরও বেশি করে টেনে নেয়। ফলে এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতা একবারে কমে যায়। ফিল্টার জ্যাম হয়ে যাওয়ার কারণে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে বেড়ে যায় বিদ্যুৎ বিল। কমে এসির আয়ুও।
ক্ষতি এখানেই শেষ নয়। এসির ব্লোয়ারের ধাক্কায় এই নিকোটিনযুক্ত বাতাস পুনরায় ঘরে ফিরে আসে। ফলে স্থায়ীভাবে বিষাক্ত কণা জমতে থাকে সোফা, পর্দা, কুশন ও দেওয়ালে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘থার্ড-হ্যান্ড স্মোকিং’ বলা হয়। এসি বন্ধ করলেও ঘর থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। রুম ফ্রেশনার দিয়েও এই গন্ধ দূর করা যায় না। এই পরিবেশ গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আকস্মিক বিস্ফোরণ। বর্তমানের আধুনিক এসিগুলোতে R32 বা R290-এর মতো গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত দাহ্য। কোনো কারণে যদি ইনডোর ইউনিট বা পাইপ থেকে এই রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক হয়, তবে জ্বলন্ত দেশলাই, লাইটার বা সিগারেটের সামান্য আগুন থেকে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন লেগে যেতে পারে। কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণেও যেকোনো দিন এসি ব্লাস্ট করার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে এবং বিপদ এড়াতে জীবনযাত্রায় এইটুকু বদল আনাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। এসি ঘরে ধূমপান করার অভ্যাস ত্যাগ না করলে বড় আর্থিক ক্ষতি ও প্রাণসংশয় হতে পারে। সুস্থ থাকতে এবং নিজের ঘরকে সুরক্ষিত রাখতে এই অভ্যাস আজই ছাড়ুন।
এনএম