লাইফস্টাইল ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ফলের রাজা আম খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। গ্রীষ্মের এই রসালো ফলটি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এর পুষ্টিগুণের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, সুস্বাদু এই ফলটি আপনার ত্বকের যত্নেও দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই এবং নানা ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, বলিরেখা দূর করতে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই, রূপচর্চায় আমের দারুণ সব উপকারিতা এবং ব্যবহারের উপায়-
আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। কোলাজেন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন ঠিক রাখে এবং ত্বককে ঝুলে পড়ার হাত থেকে বাঁচায়। নিয়মিত আম খেলে বা ত্বকে ব্যবহার করলে বয়সের ছাপ ও বলিরেখা কম পড়ে।

আমে রয়েছে 'ম্যাংগিফেরিন' নামের একটি বিশেষ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি রোদের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। পাশাপাশি ত্বকের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়, ফলে রোদে পোড়া দাগ বা কালচে ভাব দূর হয়।
শরীরে ভিটামিন এ-এর অভাব হলে ত্বক অতিরিক্ত কেরাটিন প্রোটিন তৈরি করে, যার ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। আম ভিটামিন এ-এর চমৎকার একটি উৎস। তাই এটি ত্বকের তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ব্রণের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।
শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ ত্বকের জন্য আম জাদুকরী কাজ করে। এর উচ্চমাত্রার জলীয় অংশ এবং ভিটামিন ই ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। বিশেষ করে আমের বীজ থেকে তৈরি 'ম্যাংগো বাটার' রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুণ ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।

আমে থাকা এনজাইমগুলো খুব ভালো প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। এগুলো ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে ত্বকের আসল উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
আমের উপকারিতা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত তাজা আম খাওয়া। এটি ভেতর থেকে আপনার শরীর ও ত্বককে পুষ্টি জোগাবে। তবে বাইরে থেকেও ত্বকের যত্ন নিতে পারেন:
পাকা আমের পাল্পের সাথে সামান্য মধু বা টক দই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এটি ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াবে।

শুষ্ক ত্বক, রুক্ষ কনুই বা ফাটা ঠোঁটের যত্নে কোকো বাটারের মতোই ম্যাংগো বাটার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষায় স্তর তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখে।
বর্তমানে অনেক ভালোমানের ক্রিম, সিরাম বা ফেসওয়াশে আমের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আপনি চাইলে আপনার রুটিনে এসব পণ্য যোগ করতে পারেন।
ত্বকের যত্নে আম ব্যবহার করা বেশ নিরাপদ হলেও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন:

সরাসরি ত্বকে আমের পাল্প বা নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতের অল্প একটু জায়গায় লাগিয়ে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো অ্যালার্জি বা র্যাশ না হয়, তবেই মুখে ব্যবহার করুন।
ম্যাংগো বাটার বেশ ঘন এবং তৈলাক্ত। যাদের মুখে প্রচুর ব্রণ ওঠার প্রবণতা আছে, তাদের এটি সরাসরি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এটি লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আমের খোসা বা বোঁটায় থাকা কষ অনেকের ত্বকে অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে। তাই ত্বকে ব্যবহারের আগে আম খুব ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া উচিত।
সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আপনার প্রতিদিনের রূপচর্চায় আম হতে পারে একটি চমৎকার ও প্রাকৃতিক উপাদান। তাই শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতেও এই ফলের ওপর ভরসা রাখতে পারেন অনায়াসে।
সূত্র- হেলথ লাইন, ডট অ্যান্ড কী
এনএম