লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ক্যানসার এমন একটি রোগ যা প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। তাই কারো ক্যানসার ধরা পড়লেই রোগীসহ পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। অনেকেই ডাক্তারের কাছে জানতে চান রোগী কতদিন বাঁচবেন? আসলেই কি ডাক্তার বলতে পারেন একজন ক্যানসার রোগী কতদিন বাঁচবেন?
ডাক্তাররা একজন ক্যানসার রোগী কতদিন বাঁচতে পারেন সে সম্পর্কে একটি সম্ভাব্য ধারণা দিতে পারেন, তবে এটি কখনোই শতভাগ নির্ভুল বা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে প্রোগনোসিস (Prognosis) বা লাইফ এক্সপেক্টেন্সি (Life Expectancy) বলা হয়।

প্রতিটি মানুষের শরীর, রোগের ধরন এবং চিকিৎসার প্রতি সাড়া ভিন্ন হওয়ায় একই ধরনের ক্যানসারেও রোগীদের ফলাফল একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তাই ডাক্তাররা সাধারণত বিভিন্ন তথ্য, পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে ধারণা দেন।
ক্যানসারটি শরীরের কতটা অংশে ছড়িয়ে পড়েছে (Stage) এবং ক্যানসার কোষগুলো কত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে (Grade)—এ দুটি বিষয় রোগের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

সব ক্যানসার একই রকম নয়। কিছু ক্যানসার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, যেমন থাইরয়েড বা অনেক ক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যানসার। আবার কিছু ক্যানসার তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রোগীর বয়স, পুষ্টিগত অবস্থা, হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসার ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারি, টার্গেটেড থেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসাগুলো রোগী কতটা ভালোভাবে গ্রহণ করছেন এবং রোগ কতটা নিয়ন্ত্রণে আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
ডাক্তাররা প্রায়ই ‘৫ বছরের বেঁচে থাকার হার’ (5-Year Survival Rate) বা ‘মিডিয়ান সারভাইভাল টাইম’ (Median Survival Time)-এর মতো পরিসংখ্যান ব্যবহার করেন।
এর অর্থ হলো, একই ধরনের এবং একই স্টেজের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গড়ে কতজন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি পরিসংখ্যান।

নতুন নতুন ওষুধ, উন্নত রেডিওথেরাপি প্রযুক্তি, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির কারণে অনেক রোগী আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকছেন।
কখনো ক্যানসার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, আবার কখনো অপ্রত্যাশিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

‘আর মাত্র কয়েক মাস বাঁচবেন’— এ ধরনের নির্দিষ্ট মন্তব্য রোগী ও পরিবারের ওপর গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকরা সাধারণত সম্ভাব্য সময়সীমা বা রোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন, নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নয়।
ক্যানসার রোগীর জীবনের সময়কাল শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়। অনেক রোগী এমন সময়ের চেয়েও দীর্ঘদিন ভালোভাবে বেঁচে থাকেন, যা প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল। আবার কারও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ক্যানসার নির্ণয়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
ডাক্তারদের দেওয়া প্রোগনোসিসের উদ্দেশ্য রোগীকে ভয় দেখানো নয়; বরং রোগী ও পরিবারকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে, চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে এবং প্রয়োজন হলে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
পরামর্শদাতা: ডা. মো. তৌছিফুর রহমান; এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (অনকোলজি); মেডিকেল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট; টিএমএসএস ক্যানসার সেন্টার, বগুড়া
এনএম