images

লাইফস্টাইল

গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

০২ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত নগরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষজন। দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, খুলতে শুরু করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি, রোদ্রের প্রখরতা প্রচণ্ড। মাথার ওপর সূর্য যেন আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঢালছে। পিচঢালা পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয়, চারপাশের বাতাসও যেন গনগনে চুলার আঁচের মতো গায়ে এসে লাগছে। এমন দিনে একটু শীতল ছায়া আর এক গ্লাস ঠান্ডা পানির জন্য আমাদের মন কেমন হাঁসফাঁস করে ওঠে। গ্রীষ্মের এই খরতাপে আমাদের সুস্থতার পথে সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম হলো পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন।

আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ ভাগই পানি দিয়ে তৈরি। গরমে যখন ঘামের সাথে সেই পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়, তখন শরীর যেন চার্জ শেষ হয়ে আসা মোবাইল ফোনের মতো ধীর হতে শুরু করে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশিতে টান পড়া বা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া হলো এর প্রাথমিক লক্ষণ। তবে ভয়ের কিছু নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই এই গরমেও থাকা যায় একদম সতেজ আর প্রাণবন্ত। চলুন, সেই উপায়গুলোই জেনে নেওয়া যাক- 

dehydration_1

তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা নয়

পানিশূন্যতা রোধের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। কিন্তু আমাদের একটা বড় ভুল হলো, আমরা কেবল তৃষ্ণা পেলেই পানি খাই। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, আপনার যখন তেষ্টা পাচ্ছে, তার মানে হলো শরীর আগে থেকেই পানিশূন্যতার শিকার হয়েছে। তাই তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা করবেন না।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে, আড্ডায় বা পড়াশোনার মাঝে কিছুক্ষণ পরপরই অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাইরে বের হলে সঙ্গে সব সময় একটি পানির বোতল রাখুন। এটি শুধু আপনার তেষ্টাই মেটাবে না, রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর শরবত খাওয়ার হাত থেকেও আপনাকে বাঁচাবে।

drinks

প্রকৃতির নিজস্ব জাদুর পানীয়

ঘামের সাথে শরীর থেকে শুধু পানিই বের হয় না, বেরিয়ে যায় প্রয়োজনীয় লবণ এবং খনিজ পদার্থ। তাই অনেক সময় শুধু সাধারণ পানি খেলে শরীরের দুর্বলতা পুরোপুরি কাটে না। এমন সময়ে ম্যাজিকের মতো কাজ করে প্রকৃতির নিজস্ব কিছু পানীয়। এর মধ্যে ডাবের পানি অন্যতম। এটি পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক মিনারেলের এক দারুণ উৎস, যা নিমিষেই শরীরের ক্লান্তি মুছে দেয়। 

এছাড়া বাড়িতেই এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস আর সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন দারুণ সতেজ এক শরবত। খুব বেশি ঘাম হলে বা ক্লান্তি লাগলে এক গ্লাস স্যালাইন খাওয়ার কথাও ভোলা যাবে না।

fruits_1

রসালো ফল

পানি যে শুধু গ্লাসে ঢেলে খেতে হবে, প্রকৃতি কিন্তু সেই নিয়ম বেঁধে দেয়নি। আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে এমন সব চমৎকার ফল ও সবজি, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রচুর পানীয় উপাদান। গ্রীষ্মকাল মানেই তো রসালো ফলের মেলা। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, টমেটো, পেঁপের মতো ফল ও সবজিগুলো এই সময়ের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তরমুজের প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। 

তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক বাটি তাজা তরমুজ বা শসার সালাদ রাখলে তা আপনার শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে। এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হজমশক্তিও বাড়ায়।

summer_1

পোশাক নির্বাচন ও রোদ এড়িয়ে চলা

পানিশূন্যতা এড়াতে হলে ঘাম কমানোর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। কড়া রোদে টানা অনেকক্ষণ কাজ করলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। আর এই সময়ে পোশাকের বিষয়েও সচেতন হতে হবে। 

গাঢ় রঙের এবং আঁটসাঁট পোশাকের বদলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক বেছে নিন। সুতির কাপড় সহজেই বাতাস চলাচল করতে দেয় এবং ঘাম শুষে নেয়।

tea

সাময়িক ছুটিতে চা ও কফি

বাঙালি হিসেবে সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা বা বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কফি আমাদের খুব প্রিয় অনুষঙ্গ। কিন্তু গরমের দিনগুলোতে এই প্রিয় পানীয়গুলোকে কিছুটা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। চা এবং কফিতে থাকা ক্যাফেইন এক ধরনের ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে, যা শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়। তাই চা বা কফি পানের অভ্যাস কিছুটা কমিয়ে এর বদলে তাজা ফলের রস বা বেলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

গরমকাল মানেই যে কেবল ক্লান্তি আর বিরক্তি, তা কিন্তু নয়। একটু বাড়তি যত্ন আর সচেতনতা থাকলে এই গ্রীষ্মকেও দারুণভাবে উপভোগ করা যায়। শরীরের পানির মাত্রার দিকে খেয়াল রাখলে এই কাঠফাটা রোদ আপনার চলার পথে কোনো বাধাই তৈরি করতে পারবে না। 

summer_2

নিয়ম করে পানি পান করুন, রসালো ফলের স্বাদ নিন আর নিজের শরীরের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। দেখবেন, গ্রীষ্মের এই দীর্ঘ দিনগুলোও কেটে যাচ্ছে একদম সতেজ আর প্রাণোচ্ছলভাবে।

এনএম