লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬, ১১:১১ এএম
আর মাত্র দুই দিন পর পবিত্র ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানি ঈদ। এই ঈদে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলমানরা গরু, খাসি, ভেড়া, দুম্বা ও মহিষ কোরবানি করে থাকেন। কোরবানি সম্পন্ন করার পর সবার বড় ব্যস্ততা শুরু হয় মাংস কাটা, বণ্টন এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা নিয়ে।
অসচেতনতার কারণে অনেক সময় কোরবানির মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে কিংবা এর গুণগত মান ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে। তাই মাংসের পুষ্টিগুণ ও সতেজতা বজায় রাখতে পশু কোরবানির ঠিক কতক্ষণের মধ্যে মাংস ফ্রিজে রাখা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

মাংস কাটার পর কতক্ষণের মধ্যে ফ্রিজে রাখবেন?
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, পশু জবাই করার পর থেকে মাংস কাটা শেষ হওয়া পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময় পার হয়। সাধারণত পশু কোরবানির পর ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে মাংস ফ্রিজে ঢুকিয়ে ফেলা উচিত।
পশু কাটার পর মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা বেশ বেশি থাকে। এই গরম ভাব থাকা অবস্থায় মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে না। মাংস কাটার পর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে, রক্ত ও পানি ভালো করে ঝরিয়ে ফ্যানের বাতাসে কিছুটা ঠান্ডা করে নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাংস কোনোভাবেই যেন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি বাইরে পড়ে না থাকে। এর চেয়ে বেশি সময় বাইরে থাকলে মাংসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শুরু হতে পারে এবং মাংস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

গরু, খাসি ও মহিষের মাংসের ক্ষেত্রে সময়ের ভিন্নতা
পশুর আকার এবং মাংসের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ঠান্ডা হওয়ার সময়ে কিছুটা তারতম্য ঘটে-
গরু ও মহিষের মাংস: গরু এবং মহিষের মাংসের টুকরোগুলো সাধারণত বড় হয় এবং এদের চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে ভেতরের গরম ভাব কমতে কিছুটা সময় নেয়। ফ্যানের বাতাসে ভালো করে বিছিয়ে রেখে ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে এর ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করে ফ্রিজে তুলতে হবে।
খাসি, ভেড়া ও দুম্বা: ছোট পশুর মাংসের টুকরো তুলনামূলক ছোট হয় এবং এটি দ্রুত ঠান্ডা হয়। তাই কাটার পর পানি ঝরিয়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে তুলে ফেলা নিরাপদ।

ফ্রিজে রাখার আগে কিছু জরুরি সতর্কতা
কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফ্রিজে তোলার সময় নিচের নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলুন-
১. রক্ত ও পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে নিন: মাংস কাটার পর ভালো করে ধুয়ে নিতে পারেন, অথবা না ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে রক্ত মুছে নিতে পারেন। তবে যেটাই করুন, মাংসের গায়ে যেন কোনো অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে। পানি ঝরানোর জন্য বড় ঝুড়ি ব্যবহার করুন।

২. ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করুন: একসঙ্গে অনেক মাংস বড় প্যাকেটে করে ফ্রিজে রাখবেন না। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ১ বা ২ কেজির ছোট ছোট পলিথিন বা জিপলক ব্যাগে মাংস রাখুন। এতে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস দ্রুত মাংসের ভেতরে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্রিজ ছাড়া মাংস সংরক্ষণ পদ্ধতি
৩. গরম মাংস ভুলেও ফ্রিজে নয়: মাংসের টুকরো হাত দিয়ে ছুঁয়ে যদি গরম বা ঈষদুষ্ণ মনে হয়, তবে তা ফ্রিজে রাখবেন না। পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষা করুন। গরম মাংস ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং অন্য খাবারও নষ্ট হতে পারে।
৪. ফ্রিজের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ঠাণ্ডায় সেট করে রাখুন: মাংস রাখার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ফ্রিজের রেগুলেটর বা তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ঠাণ্ডায় সেট করে রাখুন। একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ মাংস রাখলে ফ্রিজ ঠান্ডা হতে সময় নেয়, তাই আগে থেকেই ফ্রিজ প্রস্তুত রাখা ভালো।
এজেড