Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

খাওয়ার পর শুয়ে পড়ার অভ্যাস ছাড়লে শরীরে যা ঘটবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

দুপুরে খাওয়ার পর বিছানায় একটু গা এলিয়ে নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। অফিসে থাকলে অবশ্য ঘুমানোর অবকাশ নেই। সেক্ষেত্রে অনেকেই ডেস্কে বসে একটু জিরিয়ে নেন। রাতের খাবার খাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষই গুঁটি গুঁটি পায়ে এগিয়ে যান সোফা কিংবা বিছানার দিকে। রোজকার এই অভ্যাসে বাড়ছে রক্তে শর্করার পরিমাণ। চিকিৎসকদের মতে, খাওয়া শেষে বসে থাকা বা শুয়ে পড়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। 

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে হজম প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে খাবার থেকে গ্লুকোজ দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায় আর বাড়তে থাকে ব্লাড সুগার লেভেল। কেবল তাই নয়, বাড়তে থাকে হজমজনিত সমস্যাও। খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা শুয়ে পড়ার অভ্যাস একদমই ভালো নয়। বরং সুস্থ থাকতে দুপুর বা রাতে খাওয়ার পর অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। 

খাবার খাওয়ার পর শুয়ে পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করলে কী কী উপকার মিলবে? চলুন জানা যাক- 

Walking-og_image

হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটবে

খাবার খাওয়ার পর বসে থাকা কিংবা শুয়ে পড়া একদমই উচিত নয়। একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার ভালো হজম হয়। হাঁটলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সচল হয়। এতে খাবার দ্রুত হজম হয়। পাশাপাশি দূর হয় পেটফাঁপা, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা। 

ভারী খাবার খাওয়ার পরে শরীরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, সেটাও কমে যায় একটু হাঁটলে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগলে খাওয়ার আগে অ্যান্টাসিড না খেয়ে, খাওয়ার পরে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে উপকার মিলবে বেশি। 

sleep

রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়বে না

খাওয়ার পর হাঁটাচলা করলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তে শর্করার মাত্রা। শরীরের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সক্রিয় পেশিগুলোই রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাওয়ার পর হাঁটলে পেশিগুলো ইনসুলিনের সাহায্য ছাড়াই রক্ত থেকে সরাসরি গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তে আর বাড়তি শর্করা মিশতে পারে না। তাই সুগার লেভেলও থাকে নিয়ন্ত্রণে। 

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগলে খাওয়ার শেষে অবশ্যই হাঁটাহাঁটি করুন। এতে সুগার স্পাইক হবে না। 

fit

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে  

কেবল খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানলেই যে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এমনটা নয়। পাশাপাশি কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এর মধ্যে খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাস অন্যতম। শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা ইনসুলিন শরীরকে চর্বি পোড়াতে দেয় না, বরং চর্বি জমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। হাঁটলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা দূর হয় এবং সহজে ফ্যাট গলে। 

এছাড়া হজমের সমস্যা দূর হলে একাধিক মেটাবলিক সমস্যা দূর হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় এটি। 

এনএম