লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১০ মে ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
'মা' খুব প্রিয় একটি শব্দ। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও নিরাপদ আশ্রয়ের নাম এটি। এই একটা ডাকেই যেন জীবনের সকল কষ্ট, ক্লান্তি আর গ্লানি নিমিষেই দূর হয়ে যায়। সন্তানের জন্য একজন মায়ের যে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ এবং অপরিসীম অবদান, তা আসলে কোনো শব্দ বা বাক্য দিয়ে বলে শেষ করা যায় না। মায়ের ভালোবাসার কোনো সীমারেখা নেই।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের মানুষগুলো এখন বড্ড যান্ত্রিক হয়ে গেছে। ক্যারিয়ার আর অর্থের পেছনে ছুটতে গিয়ে তারা সবচেয়ে আপন মানুষটিকে সময় দিতে চরম কৃপণতা করেন। নিজের বেড়ে ওঠার পেছনে, একজন সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে মায়ের যে তিল তিল পরিশ্রম ও নির্ঘুম রাত রয়েছে, সন্তানরা তা একসময় খুব সহজেই ভুলে যায়।
খুব অবাক লাগে, এই সভ্য সমাজে বৃদ্ধাশ্রম কীভাবে তৈরি হয়! যে মা তার পুরো জীবন সন্তানের জন্য উৎসর্গ করলেন, জীবনের শেষ বেলায় তার ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রমে হবে? আমি সেসব বিবেকহীন সন্তানকে ধিক্কার জানাই, ধিক্কার জানাই তাদের এই অমানবিক মানসিকতাকে। তারা হয়তো নিজেরাও বোঝে না, প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম আছে। একদিন এই কঠিন কর্মফল তাদেরও ভোগ করতে হবে। সময় ঠিকই এসব অকৃতজ্ঞ সন্তানের বিপক্ষে গিয়ে দাঁড়াবে।

মায়ের ত্যাগের প্রকৃত মূল্য যে সন্তান দিতে জানে না, সে দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই চিরতরে হারায়। অনেক সময় দেখা যায়, তথাকথিত আধুনিকতার দোহাই দিয়ে কোনো কোনো স্ত্রী তার শাশুড়িকে পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দেন। একটি সংসারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই দায় থাকে।
তবে আমি মনে করি, এক্ষেত্রে ছেলেসন্তানের দায়ই সবচেয়ে বেশি। তার তো নিজস্ব বিবেক, বিবেচনা ও বোধশক্তি আছে। স্ত্রীর কথায় বা অন্য কোনো চাপে সে কেন নিজের জন্মদাত্রী মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে? নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখা জরুরি। আমাদের সবার খুব ভালোভাবে মনে রাখা উচিত, মহাকালের বিচারের কাঠগড়ায় একদিন আমাদের প্রত্যেককে নিজেদের এই কাজের হিসাব দিতে হবে।
বাবা-মাকে অবহেলা করে নিজেকে অতি আধুনিক হিসেবে উপস্থাপন করার নাম কোনোভাবেই স্মার্টনেস নয়। এটি বরং আমাদের সামাজিক নীতি ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের লক্ষণ। তাই সময় থাকতে নিজের মায়ের যত্ন নিন। তাকে বুঝতে দিন যে তিনি আপনার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

দিনশেষে একবার মন থেকে 'মা' বলে ডাক দিলেই তিনি সব অভিমান ভুলে পরম মমতায় আপনাকে বুকে আগলে রাখবেন। মায়ের গায়ের সেই পরিচিত ঘ্রাণ আর শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে থাকা সেই অদ্ভুত প্রশান্তি, আপনি পৃথিবীর আর কোনো দামি জায়গায় বা কোনো মানুষের কাছে খুঁজে পাবেন না।
তাই এবারের মা দিবসে আমার একটাই চাওয়া, প্রবাদের সেই কথার মতো দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন। মাকে ভালোবাসতে বা সম্মান জানাতে কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না, প্রতিদিন তাকে ভালোবাসুন। মাকে একবার চিরতরে হারিয়ে ফেললে, এই অমূল্য সম্পদের শূন্যতা আর কেউ পূরণ করতে পারবে না। তখন তার গুরুত্ব বুঝে আর কোনোই লাভ হবে না। হাজার কান্নাকাটি করলেও সেই প্রিয় মুখটি আর ফিরে পাবেন না।
লেখক: লেখক ও কথাসাহিত্যিক
এনএম