লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৪ মে ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
সম্প্রতি ভারতে বিরিয়ানি আর তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রাতে বিরিয়ানি খাওয়ার পর বাড়িতে থাকা তরমুজ খেয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় বমি, ডায়রিয়া ও শারীরিক অসুস্থতা। অতঃপর মৃত্যু। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তরমুজের মতো সাধারণ ফল কি সত্যিই এত বিপজ্জনক হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ এমনিতে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি একটি পুষ্টিকর ও পানিসমৃদ্ধ ফল। তবে এই ফলটি সহজেই দূষিত হতে পারে। তরমুজে পানি ও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষ করে কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হলে সেখানে জীবাণু জন্মাতে পারে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ বা কাটার সময় অপরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করলেও বাড়ে দূষণের ঝুঁকি।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফলটি যখন সালমোনেলা সংক্রমণ, লিস্টেরিওসিস বা ই. কোলাই সংক্রমণের রোগ সৃষ্টিকারী স্ট্রেনের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত হয় তখনই ঝুঁকি বাড়ে। এই জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সিস্টেমিক সংক্রমণ (সেপসিস) বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

সাধারণভাবে তরমুজ খেয়ে মৃত্যু হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। তবে তরমুজটি যদি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, তাহলে খাদ্য বিষক্রিয়া হতে পারে এবং পরিস্থিতিভেদে গুরুতর ক্ষেত্রে তা মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র পানিশূন্যতা বা সংক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

কিছুক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজে কৃত্রিমভাবে মিষ্টতা বাড়াতে গ্লুকোজ বা চিনির পানি ইনজেক্ট করে। যদি এই প্রক্রিয়াটি অস্বাস্থ্যকরভাবে করা হয়, তাহলে তা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো দিনের বেলা। বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে। খাবারের মাঝামাঝি সময় এটি হালকা নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

রাতের বেলা তরমুজ খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে রাতে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ফলে দূষিত বা ভারী খাবার খেলে তা হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।
তরমুজ কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন
পরিষ্কার ছুরি ও বোর্ড ব্যবহার করুন
কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখবেন না
ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন
অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদ লাগলে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
রাস্তার খোলা জায়গা থেকে কাটা তরমুজ না খাওয়াই ভালো

তরমুজ একটি স্বাস্থ্যকর ও উপকারী ফল, তবে এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
এনএম