লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২ মে ২০২৬, ০২:২১ পিএম
রান্নাঘরে যেসব সবজির সরব উপস্থিতি দেখা যায় তার মধ্যে টমেটো অন্যতম। ভুনা, সবজি তরকারি, মাছের ঝোল সবকিছুতেই টমেটো থাকা চাই। শসা আর পেঁয়াজের সঙ্গে অনেকে টমেটোর সালাদ বানিয়ে খান। পুষ্টিগুণেও পিছিয়ে নেই এই সবজি। কিন্তু অনেকেরই টমেটো খেলে বুক জ্বালা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। মূলত টমেটোর কারণে অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের সমস্যায় ভোগেন তারা।
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, টমেটো এবং টমেটো দিয়ে তৈরি খাবার খেলে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এর সমস্যা বাড়ে।

টমেটোতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ম্যালিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিডগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে আরও বেশি গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে।
টমেটোতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। এটি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর মাঝখানের কপাটিকা বা পেশি (LES)-কে শিথিল করে দেয়। এর জেরে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। তাই টমেটোর খেলেই বুক জ্বালা, গলায় অ্যাসিড উঠে আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

কাঁচা টমেটো তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। রান্না করা বা টমেটো কেচাপ, পিউরি, সস ইত্যাদি বেশি শরীরের ক্ষতি করে। প্রসেসিংয়ের সময় টমেটোতে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর রান্নার সময় টমেটোর সঙ্গে আরও উপাদান মিশিয়ে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এজন্য টমেটো সস বা টমেটো স্যুপ খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বেশি হয়।
টমেটোর মধ্যে আছে লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে টমেটো। এটি ক্যানসার, প্রদাহের মতো রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই টমেটো খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। বদলাতে হবে খাওয়ার ধরন।

রান্নায় অল্প পরিমাণ টমেটো ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে টমেটোর বীজ ফেলে দিন।
টমেটোর সঙ্গে শসা, শাকসবজি, আলু-গাজরের মতো সবজি খান। এগুলো অ্যাসিডের পরিমাণকে ব্যালান্স করে দেয়।
রাতে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে টমেটো খাবেন না। এরপরও যদি এই সবজি খেলে সমস্যা হয় তাহলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
এনএম