images

লাইফস্টাইল

গরমে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ খেলে হতে পারে বিপদ! 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১২:২১ পিএম

ব্যথা এখন বেশিরভাগ মানুষের নিত্যসঙ্গী। আজ কোমর ব্যথা তো কাল কাঁধে ব্যথা। এই পেটে ব্যথা তো ওই পায়ে ব্যথা। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির সহজ উপায় হলো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া। তবে কিডনি যদি ভালো রাখতে চান তাহলে গরমে এই অভ্যাসে লাগাম টানার বিকল্প নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, কিডনির রোগের জন্য দায়ী হতে পারে ব্যথানাশক ওষুধ। 

সম্প্রতি পাবমেড থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গরমের সময়ে অত্যধিক মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা কিডনির রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ‘নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ’ (এনএসএআইডি) গোত্রের যেসব ওষুধ আছে, সেগুলো বেশি ডোজে খেতে শুরু করলে কিডনির ক্ষতি হবে। এই দাবির সঙ্গে একমত জনস হপকিন্স মেডিসিনও।

pills_1

কিডনির রোগ বর্তমানে জীবনধরার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত এক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রনিক কিডনির রোগের জন্য দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর ভুলভাল ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা। সাধারণত কিডনির সমস্যা দুটি কারণে হতে পারে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের সমস্যার কারণে কিডনির ক্ষতি হয়। একে ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’। 

এছাড়া, সংক্রমণ, দুর্ঘটনায় চোট পাওয়ার কারণে কিংবা অতিরিক্ত কোনো ওষুধ খাওয়ার ফলেও কিডনির সমস্যা হতে পারে।  চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’ বলা হয়। এসব ওষুধের তালিকায় ব্যথানাশক ওষুধের নামই সবার উপরে থাকবে। 

kidney

ব্যথানাশক ওষুধের সঙ্গে কিডনির রোগের সম্পর্ক কী? 

গরমকালে পেশিতে টান ধরা বা মাথাব্যথার সমস্যা বেশি হয়। আর এমন ব্যথা থেকে মুক্তি অনেকেই চট করে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলে। রোদে বেরিয়ে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলেও ওষুধ খেতে হয় অনেককেই। এছাড়া এসময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। পেটের সমস্যাও হয় ঘন ঘন। রোগ যাই হোক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। আর এই অভ্যাসের কারণেই বাড়ছে বিপদ।

গবেষকরা বলছেন, কোন ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ কাদের শরীরের জন্য উপযুক্ত, তা না জেনেই ওষুধ খাওয়া হচ্ছে। আর এসব ওষুধ শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে তুলছে।

pills_2

কিডনির কাজ শরীরের রক্ত শোধন করা। তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রক্তচাপ কমে যায়। কিডনি তখন প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের সাহায্যে নিজের রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ সচল রাখে। ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমতে থাকে এবং অক্সিজেনের অভাবে কিডনির কোষগুলোর ক্ষতি হতে থাকে।

উচ্চ তাপমাত্রায় শরীরের বিপাকীয় হার পরিবর্তিত হয়। এই অবস্থায় ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনিতে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি করে। ওষুধের ঘনত্ব রক্তে বেশি থাকলে সেগুলো কিডনি আর ছেঁকে বের করে দিতে পারে না। ফলে কিডনি বিকল হতে শুরু করে।

kidney_1

কাদের ঝুঁকি বেশি?

হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, এমন রোগীদের ঝুঁকি এক্ষেত্রে বেশি। হরমোনের চিকিৎসা চলছে বা হরমোনের ওষুধ খাচ্ছেন যারা, তারা যদি ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খান, তাহলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার সমস্যা যদি এমনিতেই বেশি থাকে বা শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকে, তাহলেও ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খেলে বিপদ হতে পারে।

এনএম