লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
চুপচাপ বসে কাজ করছেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন পা জোড়া কাঁপতে শুরু করেছে। কিংবা পানি খাওয়ার জন্য গ্লাস হাতে নিতেই হাত কাঁপতে শুরু করেছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণও রাখতে পারছেন না। একসময় হয়তো টান ধরে পায়ের পেশিতে।
কারণে অকারণে হাত-পা কাঁপার এ সমস্যা কেবল বার্ধক্যে নয়, কমবয়সীদের মধ্যেও দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ট্রেমর’ বলে। কেবল স্নায়ুর রোগ বা পার্কিনসন্সের কারণে এটি হয় না। এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।

অধিকাংশই মনে করে হাত কাঁপা মানেই বার্ধক্যজনিত সমস্যা। যা পার্কিনসন্স নামে পরিচিত। আসলে তা নয়। ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, হাত কাঁপার অনেক ধরন আছে। অনেকের হাত অনবরত কাঁপে, কোনো জিনিস ঠিকমতো ধরতে পারেন না। আবার অনেকের শুধু কোনো জিনিস তুলতে গিয়ে বা লেখার সময়ে হাত কাঁপে, অন্য সময় নয়। কথা বলার সময়েও অনেকের হাত অনবরত কাঁপতে থাকে। এগুলো হয় স্নায়বিক সমস্যার কারণে যাকে ‘ইনভলান্টারি মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার’বলে।
হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে গেলেও হাত বা পায়ের পাতায় কাঁপুনি হতে পারে। হরমোনের গোলমালের কারণে অনেকের এমন হয়।

ভিটামিনের অভাবও হাত-পা কাঁপার একটি কারণ। গবেষণা বলছে, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব হলে স্নায়ুর কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন কম্পন হতে পারে শরীরে। আবার ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের অভাবের কারণেও এমনটা হতে পারে।
ডায়াবেটিসের রোগীদেরও এ সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই কমে গিয়েছে।

হঠাৎ হাত-পা কাঁপার আরও একটি কারণ হলো ডিজিটাল আসক্তি। রাতে কম ঘুম, দুশ্চিন্তা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও মানসিক সমস্যা নিরাময়ের ওষুধ দীর্ঘ দিন ধরে খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাত কাঁপে। তখন ওষুধ বদলে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়।

হাত বা পা কাঁপা খুব বেশি ও লাগাতার হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে। আর যদি মাঝেমধ্যে হয় তাহলে হালকা ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে দিন। প্রথমে বাঁ দিক দিয়ে ডান হাতের কব্জি বিপরীত দিকে বাঁকানোর চেষ্টা করুন। এতে হাত ও কব্জির সংযোগস্থলে টান সৃষ্টি হবে। ২০-২৩ সেকেন্ড করে ওই অবস্থানে হাত ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক হাতে ২-৩ বার করতে হবে।
পায়ের কাঁপার সমস্যা কমাতে কাফ রেজ অভ্যাসে সুফল পাওয়া যেতে পারে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে গোড়ালি উপরে তোলা ও নামানোর চেষ্টা করুন। এটি কাফ মাসলকে শক্তপোক্ত করে তোলে। পায়ের ব্যথা কমাতে এই ব্যায়ামটি খুবই উপযোগী।
এনএম