লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ক্যানসার মানেই মনজুড়ে আতঙ্ক। অনেকে ভাবেন, ক্যানসার লক্ষণ মানেই খুব বড় বা ভয়ঙ্কর কিছু। ‘হেড অ্যান্ড নেক’ ক্যানসারের ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টি উল্টো হতে পারে। মুখ-গলার ক্যানসারের শুরুতে লক্ষণগুলো এত বেশি সাধারণ থাকে যে বেশিরভাগ মানুষ সেগুলোতে গুরুত্ব দেন না। আর এতে বাড়ে ঝুঁকি।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো ধরা পড়লে এ ধরনের ক্যানসার অনেকাংশেই নিরাময় করা যায়। কিন্তু দেরি হলে চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাহলে করণীয় কী? চলুন জেনে নিই-

মুখ, গাল, গলা, স্বরযন্ত্র, টনসিল, থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, নাক ও নাসিকাগহ্বর, মুখগহ্বরের শেষ প্রান্ত, খাদ্যনালির উপরিভাগ, খুলির নীচের অংশে হওয়া ক্যানসারকে ‘হেড অ্যান্ড নেক’ ক্যানসার বলা হয়। ক্যানসার চিকিৎসকদের মতে, ‘এই ক্যানসারের মূল কারণগুলো জেনে নিলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি। কারণ, সেগুলি রোজকার অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। সেগুলি ত্যাগ করলেই এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।’
চিকিৎসকের মতে, আগেভাগে রোগ ধরা পড়লেই জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। কারণ, শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা করা সহজ হয় এবং রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসের কারণেই এই ক্যানসার তৈরি হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

সমস্যা হলো, অনেকেই এই ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা করেন। এই যেমন মুখ বা গলার ঘা দীর্ঘদিন না সারা, গলায় ব্যথা, গলার স্বরে পরিবর্তন আসা—এমন সমস্যাগুলো সহজভাবে নেওয়া যাবে না। এগুলোই হতে পারে প্রাথমিক সতর্কবার্তা।
এছাড়া খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া, গলায় বা ঘাড়ে কোনো গাঁট বা ফোলা থাকা, দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কানে ব্যথা বা মুখে অস্বস্তি থাকার মতো লক্ষণগুলো যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সিগারেট, বিড়ি, খৈনি, গুটখার মতো যেকোনো দ্রব্য সেবনেই এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তামাকের কারণে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ১০-২০ গুণ।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করার কারণেও একাধিক মানুষ মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। মদ্যপানের সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৩০-৪০ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

তরুণ এবং অ-ধূমপায়ীরা এই ভাইরাসের সংক্রমিত হতে পারে। বায়োপসি করে এই ভাইরাল সংক্রমণ ধরা পড়ে তাদের শরীরে।
ভেঙে যাওয়া দাঁত বা ভুলভাবে বসানো নতুন দাঁত থেকেও মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। দাঁতের এই ধরনের সমস্যা থেকে মুখে ঘন ঘন ঘা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বেশি দিন এমন ঘাকে অবহেলা করলে ক্যানসার হতে পারে।

এনএম