images

লাইফস্টাইল

টয়লেটে বসে ফোন ঘাঁটেন? হতে পারে এই মারাত্মক অসুখ!

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০০ পিএম

কর্মব্যস্ত জীবনে বর্তমানে বাথরুম বা টয়লেট মানেই অনেকটা সময় একান্তে কাটানোর সুযোগ। আর এই সময়কে কাজে লাগাতে অনেকে সঙ্গী করে নেন স্মার্টফোনকে।  টাইমলাইন স্ক্রলিং বা রিলস দেখতে দেখতে কখন যে সময় কেটে যায় টের পাওয়া যায় না। কিন্তু এই অভ্যাসটিই যে শরীরের কত ক্ষতি করছে তা হয়তো অনেকের অজানা। 

চিকিৎসকদের মতে, টয়লেটের সিটে বসে দীর্ঘক্ষণ ফোন ঘাঁটার অভ্যাস শরীরকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দিচ্ছে। কেন বিপজ্জনক এই অভ্যাস? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই- 

toilet

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সিট কোনো সাধারণ চেয়ার নয়। আপনি যখন কমোডে বসেন, তখন আপনার রেক্টাম বা মলাশয় কোনো সাপোর্ট পায় না। মহাকর্ষ বল বা গ্র্যাভিটির টানে শরীরের নীচের অংশের রক্তনালিগুলোতে চাপ বাড়তে থাকে। 

এমন পরিস্থিতিতে ফোনে মশগুল হয়ে ১০ মিনিটের বেশি সময় ওই অবস্থায় কাটালে মলদ্বারের আশেপাশের শিরাগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। ডাক্তারি পরিভাষায় একেই ‘পাইলস’ বা অর্শ্ব বলা হয়। 

toilet_1

শরীরের নিজস্ব একটি মেকানিজম আছে। কিন্তু স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকলে আমরা শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলো খেয়াল করি না। ফলে মল দীর্ঘক্ষণ কোলনে জমে থাকে এবং শক্ত হয়ে যায়। এর জেরেই শুরু হয় কোষ্ঠকাঠিন্য, যা পরবর্তীকালে ফিশার বা মলাশয়ে ফাটলের মতো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার জন্ম দেয়। চিকিৎসকের ভাষায় একে ‘স্ট্রেনিং প্যারাডক্স’ বলে। অর্থাৎ আপনি হয়তো জোর দিচ্ছেন না, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের ওপর যে চাপ পড়ছে, তাতেই তৈরি হচ্ছে বড় অসুখ।

এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় কী?

চিকিৎসকদের মতে, ৫ মিনিটের মধ্যে টয়লেটের কাজ শেষ না হলে উঠে পড়া উচিত। প্রয়োজনে পরে আবার চেষ্টা করুন, কিন্তু বসে বসে ফোন ঘাঁটবেন না। 

toilet_2

নেশা কাটাতে ফোনটি বাথরুমের বাইরে রেখেই ভেতরে ঢোকার অভ্যাস করুন।

পায়ের তলায় ছোট টুল বা ‘স্কোয়াটি পট’ ব্যবহার করুন। এতে কোলন পরিষ্কার হওয়া সহজ হয় এবং চাপ কম পড়ে।

drinking

প্রচুর পানি পান করুন এবং ফাইবারযুক্ত খাবার খান। এতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকাংশেই কমবে। 

এনএম